দেশের প্রতিকূল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবাহে উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে নিট এফডিআই প্রবাহ বেড়েছে ৩৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালে দেশে নিট এফডিআই প্রবাহ ছিল ১ হাজার ২৭০ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৭০ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি ছিল পুনঃবিনিয়োগকৃত আয় এবং আন্তঃকোম্পানি ঋণ। ২০২৪ সালে পুনঃবিনিয়োগকৃত আয়ের পরিমাণ ছিল ১০৩ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে তা ৩১৮ দশমিক ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩৪ দশমিক ১০ মিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে আন্তঃকোম্পানি ঋণ বেড়ে হয়েছে ৭৮১ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেশি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ তুলে না নিয়ে তা পুনরায় বিনিয়োগ করছেন—যা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বাজারের প্রতি দীর্ঘমেয়াদি আস্থার ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
বিশ্বজুড়ে নতুন বা ‘গ্রিনফিল্ড’ প্রকল্প ঘোষণার সংখ্যা ২০২৫ সালে ১৬ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশে ইকুইটি মূলধনে সামান্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইকুইটি মূলধনের পরিমাণ ছিল ৫৪৪ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫ সালে ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেড়ে ৫৫৪ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত ইউএন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আঙ্কটাড)-এর প্রতিবেদনেও বাংলাদেশের এফডিআই প্রবাহে ইতিবাচক প্রবণতার বিষয়টি উঠে এসেছে। সংস্থাটি বলছে, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ ও অভ্যন্তরীণ অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের বাজারে আস্থা ধরে রেখেছেন। এর প্রমাণ হিসেবে প্রতিবেদনে ১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলারের এফডিআই প্রবাহের উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন,
“বর্তমান বিনিয়োগের পরিমাণ দেশের সম্ভাবনার তুলনায় এখনও কম। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরবর্তী সময়ে ৩৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি এখন অনিশ্চিত, আর এর প্রভাব উন্নয়নশীল দেশগুলো বেশি অনুভব করছে। এই সময়কে আমরা সংস্কার ও প্রস্তুতির সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাচ্ছি।”
বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে বর্তমানে বিডা, বেজা, মিডা ও পিপিপিএ যৌথভাবে ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। পরিকল্পনায় অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ সেবা সহজীকরণ এবং নিয়ন্ত্রণমূলক জটিলতা কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার ঘোষিত সংস্কার কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও বড় পরিসরে দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হবে।
প্রতিবেদকের নাম 




















