টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত থেকে শুরু হওয়া মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, পাহাড় ধসের আশঙ্কা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলায় বুধবারের (৮ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।
রাঙ্গামাটিতে টানা বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রশাসন ৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করেছে। বৃষ্টির কারণে জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাঘাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করছে স্থানীয় প্রশাসন।
বান্দরবানেও সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শহরের আর্মিপাড়া, কাশেমপাড়াসহ বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে শুরু করেছে। জেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং পাহাড়ধসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, খাগড়াছড়িতে বৃষ্টি কিছুটা কম থাকায় নদ-নদীর পানিও ধীরে ধীরে কমছে। নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জেলায় ২৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
চট্টগ্রাম নগরীতে রাতে বৃষ্টি কম থাকায় অনেক এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও বুধবার সকাল থেকে আবারও ভারী বর্ষণ শুরু হয়েছে। চান্দগাঁওয়ের সমশের এলাকায় রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল এখনও বন্ধ রয়েছে।
এদিকে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে টানা পঞ্চম দিনের মতো টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে দ্বীপে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দিতে শুরু করেছে।
বন্যা ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলায় বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরে ঘোষণা করা হবে।
প্রতিবেদকের নাম 




















