যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর সঙ্গে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার খবর আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর প্রভাব পড়েছে অপরিশোধিত তেলের দামে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাজার খোলার পর ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ১ দশমিক ২৪ ডলার বা ১ দশমিক ১৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ৯৩ ডলারে উঠেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ২৬ মিনিটের দিকে এই দাম রেকর্ড করা হয়।
হরমুজে কমেছে জাহাজ চলাচল
রয়টার্স জানিয়েছে, কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র চারটি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। এর আগের দিন রোববার এই সংখ্যা ছিল ১০টি। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে জাহাজ চলাচল কমেছে ছয়টি।
এদিকে হরমুজ স্ট্রেইট মনিটরের তথ্য অনুযায়ী, প্রণালিতে অন্তত ৪৩৬টি জাহাজ স্থবির অবস্থায় রয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের এই পতন বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার কারণে সরবরাহব্যবস্থায় আরও বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তেলের বাজারে বাড়ছে চাপ
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ার পাশাপাশি সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার খবরও তেলের বাজারে প্রভাব ফেলেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হরমুজ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হয়। ফলে এই পথে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
এরই মধ্যে বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হলে তেলের দামে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
সরবরাহ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
হরমুজ প্রণালিতে শত শত জাহাজ আটকে থাকা এবং নতুন করে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের কারণে জ্বালানি পরিবহনে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিলে তার প্রভাব বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি, জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক তেলবাজারের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। ফলে হরমুজ প্রণালিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















