ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানি করা জায়েজ, তবে এর বিধান পরিস্থিতিভেদে ভিন্নভাবে প্রযোজ্য।
১) সাধারণভাবে (ওসিয়ত ছাড়া)
যদি মৃত ব্যক্তি জীবদ্দশায় কোরবানির জন্য কোনো ওসিয়ত না করে থাকেন, তাহলে তার নামে কোরবানি করা যাবে এবং এটি নফল সদকা হিসেবে গণ্য হবে।
এই ক্ষেত্রে—
- কোরবানির গোশত নিজেরাও খাওয়া যাবে
- আত্মীয়-প্রতিবেশীদেরও দেওয়া যাবে
- গরিবদেরও দেওয়া যাবে
অর্থাৎ, এটি একটি সওয়াবের কাজ হিসেবে ধরা হয়, যার সওয়াব আল্লাহ চাইলে মৃত ব্যক্তির কাছে পৌঁছাতে পারেন।
২) ওসিয়ত থাকলে
যদি মৃত ব্যক্তি মৃত্যুর আগে স্পষ্টভাবে কোরবানির ওসিয়ত করে যান এবং তার সম্পদ থেকে তা আদায় করা হয়, তাহলে—
- সেই কোরবানি তার পক্ষ থেকে আবশ্যিক (ওয়াজিব ধরনের দায়িত্ব হিসেবে) গণ্য হবে
- কোরবানির গোশত সাধারণভাবে গরিবদের মধ্যে বিতরণ করা উত্তম/প্রযোজ্য
৩) শরিয়তের মূল দৃষ্টিভঙ্গি
ফিকহ ও হাদিসভিত্তিক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে—
- মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সদকা, হজ ও কোরবানি করা যেতে পারে
- এগুলো “সদকায়ে জারিয়া”-র অন্তর্ভুক্ত হতে পারে
- সওয়াব পৌঁছানো আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল
হাদিস অনুযায়ী, মৃত্যুর পর তিনটি আমল ব্যতীত মানুষের আমল বন্ধ হয়ে যায়:
- সদকায়ে জারিয়া
- উপকারী ইলম
- নেক সন্তান (মুসলিম: ৪০৭৭)
সংক্ষেপে
✔ মৃতের পক্ষ থেকে কোরবানি করা যাবে
✔ ওসিয়ত না থাকলে এটি নফল সদকা
✔ ওসিয়ত থাকলে তা পালন করা বাধ্যতামূলকভাবে প্রযোজ্য
✔ গোশত বণ্টনের নিয়ম পরিস্থিতিভেদে আলাদা হয়
প্রতিবেদকের নাম 


























