রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগর এলাকায় দিন দিন বাড়ছে ছিনতাই, খুন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক পরিবার বাসা ও অফিস পরিবর্তন করে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত বাসিন্দারা। এর প্রভাব পড়েছে শিক্ষাক্ষেত্রেও—অনেক এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় গ্যাং সহিংসতা, অস্ত্রের সহজলভ্যতা এবং বিভিন্ন অপরাধী চক্রের আধিপত্যের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বহু আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট খালি পড়ে রয়েছে। অনেক বাড়ির মালিক নিরাপত্তার অভাবে বাড়ি বিক্রির সিদ্ধান্তও নিয়েছেন।
বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের পর শিক্ষক, টিউটর এমনকি নতুন ভাড়াটিয়ারাও মোহাম্মদপুরে আসতে অনীহা প্রকাশ করছেন। এতে এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
ব্যবসায়ীরাও বলছেন, সন্ধ্যার পর ক্রেতার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। আগে যেখানে প্রতিদিন ২০–৩০ হাজার টাকার বিক্রি হতো, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ২–৩ হাজার টাকায়।
বিশ্বব্যাপী অপরাধ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী অনলাইন ডাটাবেস নামবিও (Numbeo)–এর ২০২৬ সালের ক্রাইম ইনডেক্স অনুযায়ী, অপরাধের সূচকে ৬২.২ স্কোর নিয়ে ঢাকার অবস্থান ৫৯তম।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, অপরাধের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। ছোটখাটো ঘটনাতেও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। তাই রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় বন্ধ করে আধুনিক ও কার্যকর অপরাধ দমন কৌশল গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অন্যদিকে, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভূমি দখল, আধিপত্য বিস্তার এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম রোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে তেজগাঁও বিভাগের ছয়টি থানার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২০৪টি মামলা দায়ের হয়েছে মোহাম্মদপুর থানায়, যা আগের মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
প্রতিবেদকের নাম 




















