বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় একক বাজার যুক্তরাষ্ট্রে জুলাই মাসে রপ্তানি কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ। বছরের প্রথম সাত মাসেও দেশটির বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।
ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, দেশে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সাত মাসে রপ্তানি কমেছে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ
যুক্তরাষ্ট্রের ‘অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল’ (অটেক্সা) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ৪৬৫ কোটি ৮৯ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ।
গত বছরের একই সময়ে এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪৯৮ কোটি ২৬ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি কমেছে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।
তবে কমে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের পোশাকের বাজারে দ্বিতীয় শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশের অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।
জুলাইয়ে রপ্তানি কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ
অটেক্সার সাত মাসের হিসাবে জুলাইয়ে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির চিত্র আরও খারাপ হয়েছে। এ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ৭৩ কোটি ২ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। গত বছরের জুলাইয়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৬৫ কোটি ১০ লাখ ডলার।
অটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে ভারতের পোশাক রপ্তানি কমেছে ২৮ দশমিক ৮০ শতাংশ, চীনের ১৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের ১০ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর মধ্যে কমেছে ভিয়েতনাম-চীনের রপ্তানি
জানুয়ারি-জুলাই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১ দশমিক ০৩ শতাংশ। একই সময়ে চীনের রপ্তানি কমেছে ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ এবং ভারতের ২৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
এ ছাড়া পাকিস্তানের রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ, মেক্সিকোর ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং হন্ডুরাসের ১০ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
অন্যদিকে, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার পোশাক রপ্তানি বেড়েছে। কম্বোডিয়ার রপ্তানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রে সামগ্রিক পোশাক আমদানিও কমেছে
অটেক্সার তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দেশ থেকে ৪ হাজার ১৮৩ কোটি ৪৮ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছেন।
গত বছরের একই সময়ে দেশটির পোশাক আমদানির পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৫৭৯ কোটি ৮২ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমেছে ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
কয়েক বছর বাড়ার পর আবার নিম্নমুখী রপ্তানি
২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ৩৬ শতাংশ বেড়ে ৯৭৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল।
তবে ২০২৩ সালে তা প্রায় ২৫ শতাংশ কমে ৭২৯ কোটি ডলারে নেমে যায়। ২০২৪ সালে সামান্য বেড়ে দাঁড়ায় ৭৩৪ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি।
২০২৫ সালে রপ্তানি প্রায় ১২ শতাংশ বেড়ে ৮২০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়।
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদন ব্যাহত
নিট পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, দেশে বিদ্যুতের সমস্যা আগে থেকেই ছিল। এর সঙ্গে গত ২১ জুলাই থেকে তীব্র গ্যাস সংকট শুরু হয়েছে।
তার ভাষ্য, গ্যাস সংকটের কারণে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পোশাক কারখানাগুলো প্রয়োজনীয় কাপড় পায়নি এবং উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।
ফজলে শামীম এহসান বলেন, উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে রপ্তানিও কমেছে। এর প্রভাব বাংলাদেশের প্রধান পোশাক রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রেও পড়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















