রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলায় আসামি সোহেল রানা (৩৩) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার পর নাটোরের সিংড়া উপজেলার মহেশচন্দ্রপুর গ্রামে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে রায় মেনে নিয়েছে আসামি সোহেলের পরিবার এবং সন্তোষ প্রকাশ করেছে স্বপ্নার পরিবারও।
রোববার (৭ জুন) দুপুরে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ের খবর পৌঁছানোর পর সোহেলের গ্রামের মানুষ বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা ও স্বস্তির কথা জানান।
রায় ঘোষণার পর সোহেলের বাড়িতে গিয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রায় ঘোষণার বিষয়টি তারা আগে জানতেন না। স্থানীয় লোকজন এসে বিষয়টি জানানোর পর তারা খবরটি জানতে পারেন।
সোহেলের বোন জলি বেগম বলেন, “আমরা আগেই ধারণা করেছিলাম আমার ভাইয়ের ফাঁসির রায় হতে পারে। আদালতের রায় আমরা মেনে নিয়েছি। আর্থিক সামর্থ্য থাকলে আপিল করতাম।”
সোহেলের বাবা জাকির হোসেন ও মা সাজেদা বেগম বলেন, “আমরা অত্যন্ত দরিদ্র। আপিল করার মতো অর্থ আমাদের নেই। সরকারিভাবে আইনগত সহায়তা পেলে আপিলের বিষয়ে ভাববো।”
অন্যদিকে স্বপ্না আক্তারের বাবা জিয়াদুল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি আগেই মেয়েকে ত্যাজ্য করেছিলাম। আদালতের রায়ে আমি সন্তুষ্ট। বিচার দ্রুত কার্যকর হোক। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আপিল করা হবে না।”
স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর ও আবু সাইদ বলেন, “স্বপ্না পরিবারের অমতে সোহেলকে বিয়ে করেছিলেন। এরপর থেকেই পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন ছিল। আমরা চাই, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাই উপযুক্ত শাস্তি পাক।”
উল্লেখ্য, পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। রোববার সকাল ১১টায় রায় ঘোষণা শুরু হয়ে বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে তা শেষ হয়। রায়ের মাধ্যমে আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি 




















