ঢাকা ০৮:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা, ঋতুর জিপিএ-৫; উচ্চশিক্ষা নিয়ে শঙ্কা রংপুরে বেশি আসন পাওয়ায় উন্নয়ন বঞ্চিত করা হচ্ছে: ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশ চা বোর্ডে নিয়োগ, ১৩ পদে চাকরি পাবেন ৩৬ জন কেন অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করল ১১ দলীয় জোট ব্যাংক রেজল্যুশন আইন সংশোধনের খসড়ায় মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন স্থানীয় সরকার নির্বাচন: পোস্টার বন্ধ, বিলবোর্ডে মিলল অনুমতি সৌদির মরুভূমিতে ফিরল হারিয়ে যাওয়া অনাগার, জন্ম নিল শত বছর পর প্রথম শাবক শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল ভারত, ঝাড়খণ্ডে পুলিশের লাঠিচার্জ-জলকামান হরমুজ ঘিরে অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল তেলের দাম মেঘনায় ঘূর্ণিস্রোতে সাড়ে ৪ হাজার বস্তা সিমেন্টসহ ট্রলার ডুবি
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

রাশিয়ার পাশে উত্তর কোরিয়া, এবার দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তা চায় ইউক্রেন

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক সহায়তার মধ্যে এবার দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চেয়েছে ইউক্রেন। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সহায়তা পেতে সিউলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে কিয়েভ।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেনের ভূখণ্ডে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার উত্তর কোরিয়ার তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। গত জুলাইয়ে তিনি এই সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার বলে জানিয়েছিলেন।

জেলেনস্কির দাবি, ইউক্রেনে উত্তর কোরিয়ার তৈরি কিছু ক্ষেপণাস্ত্রও পাওয়া গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

রাশিয়াকে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সহায়তা

জেলেনস্কি বলেন, উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার কাছ থেকে আধুনিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। একই সঙ্গে মস্কোর কাছ থেকে প্রযুক্তি ও লাইসেন্স নিয়ে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ও উপকরণ সংগ্রহ করছে পিয়ংইয়ং।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশি কর্মীদের আকামা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত সৌদি সরকারের

চলতি মাসে ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, উত্তর কোরিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট পশ্চিম রাশিয়ায় জনবল ও সরঞ্জাম মোতায়েন শুরু করেছে। ওই ইউনিটে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য প্রায় ১২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ছয়টি লঞ্চার থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে ২০২৪ সালে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মস্কোকে সহায়তা করতে উত্তর কোরিয়া আনুমানিক ১৪ হাজার সেনা পাঠিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হাজার হাজার সেনা নিহত বা আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া ইউক্রেন ও বিভিন্ন স্বাধীন মূল্যায়নে দাবি করা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে বিপুল পরিমাণ আর্টিলারি ও মর্টার গোলা সরবরাহ করেছে। পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, দূরপাল্লার আর্টিলারি ও একাধিক রকেট নিক্ষেপ ব্যবস্থাও সরবরাহ করেছে পিয়ংইয়ং।

আরও পড়ুনঃ  শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর তাগিদ

দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা

উত্তর কোরিয়ার সামরিক সহায়তার বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কি।

তিনি বলেন, ইউক্রেন এমন একটি ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তা চায়, যেখানে তাদের বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন।

জেলেনস্কি আরও জানান, ড্রোনসহ অন্যান্য প্রতিরক্ষা খাতেও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। সম্ভাব্য চুক্তি এগিয়ে নিতে ইউক্রেনের কূটনীতিকেরা সিউলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানান তিনি।

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ

ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ঘাটতি থাকায় রাশিয়া এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে বলে কিয়েভের কর্মকর্তারা মনে করছেন। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন। উন্নত ইন্টারসেপ্টর বা যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়টের মতো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা ছাড়া এগুলো ঠেকানো কঠিন বলে সংশ্লিষ্টদের মত।

আরও পড়ুনঃ  প্রথমবার চট্টগ্রাম সফরে প্রধানমন্ত্রী, থাকছে একাধিক কর্মসূচি

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নথি অনুযায়ী, তুরস্কের কাছ থেকে ইউক্রেন যে অস্ত্রের প্যাকেজ কিনতে যাচ্ছে, তাতে ৭০টি এটিএসিএমএস স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।

মার্কিন উৎস থেকে পাওয়া এসব অস্ত্র তুরস্কের মাধ্যমে ইউক্রেনের কাছে পুনরায় বিক্রির জন্য ওয়াশিংটনের অনুমোদন প্রয়োজন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এ ধরনের অনুমোদন দিতে তারা প্রস্তুত।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নোটিশ অনুযায়ী, এম৩৯ এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ইউক্রেনের কাছে ৪৭ হাজার আর্টিলারি গোলা, ১২টি এম২৭০ মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম এবং দুই হাজারের বেশি ক্লাস্টার বোমা বিক্রির পরিকল্পনাও রয়েছে তুরস্কের।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা, ঋতুর জিপিএ-৫; উচ্চশিক্ষা নিয়ে শঙ্কা

রাশিয়ার পাশে উত্তর কোরিয়া, এবার দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তা চায় ইউক্রেন

আপডেটের সময়: ০৭:৩০:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক সহায়তার মধ্যে এবার দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চেয়েছে ইউক্রেন। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সহায়তা পেতে সিউলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে কিয়েভ।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেনের ভূখণ্ডে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার উত্তর কোরিয়ার তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। গত জুলাইয়ে তিনি এই সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার বলে জানিয়েছিলেন।

জেলেনস্কির দাবি, ইউক্রেনে উত্তর কোরিয়ার তৈরি কিছু ক্ষেপণাস্ত্রও পাওয়া গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

রাশিয়াকে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সহায়তা

জেলেনস্কি বলেন, উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার কাছ থেকে আধুনিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। একই সঙ্গে মস্কোর কাছ থেকে প্রযুক্তি ও লাইসেন্স নিয়ে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ও উপকরণ সংগ্রহ করছে পিয়ংইয়ং।

আরও পড়ুনঃ  ‘পুরো স্কুলকে টয়লেট বানিয়ে ফেলেছেন’, শিক্ষকের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

চলতি মাসে ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, উত্তর কোরিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট পশ্চিম রাশিয়ায় জনবল ও সরঞ্জাম মোতায়েন শুরু করেছে। ওই ইউনিটে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য প্রায় ১২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ছয়টি লঞ্চার থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে ২০২৪ সালে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মস্কোকে সহায়তা করতে উত্তর কোরিয়া আনুমানিক ১৪ হাজার সেনা পাঠিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হাজার হাজার সেনা নিহত বা আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া ইউক্রেন ও বিভিন্ন স্বাধীন মূল্যায়নে দাবি করা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে বিপুল পরিমাণ আর্টিলারি ও মর্টার গোলা সরবরাহ করেছে। পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, দূরপাল্লার আর্টিলারি ও একাধিক রকেট নিক্ষেপ ব্যবস্থাও সরবরাহ করেছে পিয়ংইয়ং।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশি কর্মীদের আকামা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত সৌদি সরকারের

দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা

উত্তর কোরিয়ার সামরিক সহায়তার বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কি।

তিনি বলেন, ইউক্রেন এমন একটি ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তা চায়, যেখানে তাদের বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন।

জেলেনস্কি আরও জানান, ড্রোনসহ অন্যান্য প্রতিরক্ষা খাতেও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। সম্ভাব্য চুক্তি এগিয়ে নিতে ইউক্রেনের কূটনীতিকেরা সিউলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানান তিনি।

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ

ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ঘাটতি থাকায় রাশিয়া এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে বলে কিয়েভের কর্মকর্তারা মনে করছেন। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন। উন্নত ইন্টারসেপ্টর বা যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়টের মতো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা ছাড়া এগুলো ঠেকানো কঠিন বলে সংশ্লিষ্টদের মত।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশ চা বোর্ডে নিয়োগ, ১৩ পদে চাকরি পাবেন ৩৬ জন

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নথি অনুযায়ী, তুরস্কের কাছ থেকে ইউক্রেন যে অস্ত্রের প্যাকেজ কিনতে যাচ্ছে, তাতে ৭০টি এটিএসিএমএস স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।

মার্কিন উৎস থেকে পাওয়া এসব অস্ত্র তুরস্কের মাধ্যমে ইউক্রেনের কাছে পুনরায় বিক্রির জন্য ওয়াশিংটনের অনুমোদন প্রয়োজন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এ ধরনের অনুমোদন দিতে তারা প্রস্তুত।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নোটিশ অনুযায়ী, এম৩৯ এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ইউক্রেনের কাছে ৪৭ হাজার আর্টিলারি গোলা, ১২টি এম২৭০ মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম এবং দুই হাজারের বেশি ক্লাস্টার বোমা বিক্রির পরিকল্পনাও রয়েছে তুরস্কের।