এইচকিউ ব্র্যান্ডের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে, কমবে আমদানিনির্ভরতা—সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা
দেশে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তির নতুন সংযোজন করেছে লিও আইসিটি কেবলস পিএলসি। গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির কারখানায় আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন নিশ্চিত করতে অটোমেশনভিত্তিক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও রোবট সংযোজন করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে এইচকিউ (HQ) ব্র্যান্ডের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি প্যাক উৎপাদনে গুণগত মান, নির্ভুলতা, নিরাপত্তা এবং উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
লিও আইসিটি কেবলস জানায়, গত দুই বছর ধরে তারা দেশে এইচকিউ ব্র্যান্ডের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি প্যাক উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। দেশীয় বাজারে এ ধরনের ব্যাটারির চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে উৎপাদন ব্যবস্থায় অটোমেশন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও রোবট যুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সংরক্ষণ, ইলেকট্রিক ভেহিকেল (EV), ইউপিএস, আইপিএস, ডাটা সেন্টার, অটোরিকশা এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য উচ্চমানের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি প্যাক উৎপাদনে এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে।
নতুন অটোমেটেড উৎপাদন লাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০০টি লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি প্যাক উৎপাদন করা সম্ভব হবে, যেখানে প্রায় ৪০টি ভিন্ন ক্যাটাগরির পণ্য তৈরি করা যাবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি বাংলাদেশের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি শিল্পে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
বিশ্বব্যাপী বৈদ্যুতিক যানবাহন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির বাজারও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও এই খাতের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশীয়ভাবে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সহায়ক শিল্পের বিকাশেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ, দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের নীতিগত উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তারা আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উৎপাদনের মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশের শিল্পায়নকে আরও গতিশীল করা এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখাই তাদের লক্ষ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D), আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
অন্যদিকে শিল্প উদ্যোক্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, সরকারের ধারাবাহিক নীতিগত সহায়তা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, প্রয়োজনীয় কর-সুবিধা এবং কার্যকর বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদনে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক শিল্পকেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম হবে।
প্রতিবেদকের নাম 




















