চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের স্বাস্থ্য নিয়ে আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফরে তার কর্মসূচি সীমিত রাখা, দীর্ঘ বিরতি এবং বিশ্রামের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা চাওয়ার ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—আসলে কেমন আছেন চীনের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর এই নেতা?
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (ডব্লিউএসজে) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় শি জিনপিংয়ের বিশ্রামের জন্য হোয়াইট হাউসের ওয়েস্ট উইংয়ে একটি ব্যক্তিগত কক্ষের ব্যবস্থা চেয়েছিল চীনা কর্মকর্তারা। সফরের বিভিন্ন কর্মসূচির ফাঁকে সেখানে বিশ্রাম নেওয়ার কথা ছিল তার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই কক্ষে শি জিনপিংয়ের স্ত্রী পেং লিয়ুয়ান ছাড়া অন্য কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এমনকি তার সফরসঙ্গী এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির গুরুত্বপূর্ণ নেতা কাই ছিকেও সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এনএসসি) সাবেক এক কর্মকর্তা ডব্লিউএসজেকে জানিয়েছেন, বিদেশি নেতাদের আগের সফরগুলোর তুলনায় এ ধরনের ব্যবস্থা বেশ অস্বাভাবিক।
সফরসূচির ক্ষেত্রেও শি জিনপিংয়ের জন্য বাড়তি বিশ্রামের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার কর্মমধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হলেও চীনা পক্ষ তাতে অংশ নেয়নি। শির আরও বিশ্রামের প্রয়োজন—এমন কারণ দেখানো হয়। এর ফলে দুই নেতার বৈঠকের কর্মসূচির মধ্যে প্রায় পাঁচ ঘণ্টার বিরতি তৈরি হয়।
দীর্ঘ বিমানযাত্রার পরও সফরের প্রথম দিনে শি জিনপিংয়ের জন্য কোনো সরকারি কর্মসূচি রাখা হয়নি। পরদিন ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল আর্কাইভসে তার সফরও প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়। ডব্লিউএসজের তথ্য অনুযায়ী, শুরুতে সেখানে আরও বেশি সময় কাটানোর পরিকল্পনা ছিল।
শুধু সফরসূচি নয়, শি জিনপিংয়ের চলাফেরার দৃশ্য নিয়েও তৈরি হয়েছে আলোচনা। ডব্লিউএসজে পর্যালোচনা করা ভিডিওতে দেখা যায়, জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে বিমান থেকে নামার সময় তিনি স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানের হাত ধরে এবং সিঁড়ির রেলিং ব্যবহার করে নিচে নামছেন। দুই দিন পর ন্যাশনাল আর্কাইভসে যাওয়ার সময়ও তাকে পেংয়ের হাত ধরে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে দেখা যায়।
এর আগে ভারত সফরের সময়ও শি জিনপিংয়ের স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তাকে কিছুটা অস্বস্তিতে দেখা গেলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার দোভাষীর মাধ্যমে শির শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।
পরে সম্মেলনের প্রথম দিনের কর্মসূচি এবং মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিলেও মোদির দেওয়া নৈশভোজে শি জিনপিং উপস্থিত ছিলেন না।
তবে এসব ঘটনা থেকে শি জিনপিং কোনো নির্দিষ্ট রোগে ভুগছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নিশ্চিত কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন সময়ে তার স্বাস্থ্য নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হলেও চীন সরকার তার কোনো নির্দিষ্ট অসুস্থতার কথা প্রকাশ করেনি।
শি জিনপিং একই সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট, কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতা। ফলে তার শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে সামান্য কোনো প্রশ্নও আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও চীনের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে শি জিনপিংয়ের জন্য বাড়তি বিশ্রামের ব্যবস্থা এবং সীমিত কর্মসূচি তার স্বাস্থ্য নিয়ে জল্পনাকে নতুন করে উসকে দিলেও, তার অসুস্থতার বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
প্রতিবেদকের নাম 
























