
দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনসহ বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী জাতির জন্য গৌরবের। ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি উচ্চশিক্ষা, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। একই সঙ্গে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বহু মেধাবী শিক্ষার্থী আত্মত্যাগ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে। এখন সেই গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করার দায়িত্ব সবার। এ প্রেক্ষাপটে এবারের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষাক্রমকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোটেকনোলজি এবং ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষাকে শুধু সনদনির্ভর না রেখে কর্মদক্ষতা ও ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণা ও উদ্ভাবনের পরিবেশ জোরদার এবং বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত অ্যালামনাইদের শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীল চর্চাকে শিক্ষাব্যবস্থার অংশ করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি একটি তৃতীয় ভাষায় দক্ষতা অর্জন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, নৈতিক শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে তারা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে।
শেষে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।
প্রতিবেদকের নাম 




















