বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার ভেলুরচক এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সম্রাট হোসেন বাপ্পা (৪১) হত্যা মামলার প্রধান আসামি আব্দুল করিম আকন্দকে (৬০) এক দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার (৮ জুলাই) আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, উপজেলার ভেলুরচক গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম (৬৮) ও তার ছোট ভাই আব্দুল করিম আকন্দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত ২৫ জুন জমি মাপজোককে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে আব্দুল করিম ও তার সহযোগীরা রফিকুল ইসলামের ওপর হামলা চালায়। তার চিৎকার শুনে স্ত্রী জোসনা বেগম (৬২) এবং ছেলে সম্রাট হোসেন বাপ্পা এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। হামলায় তিনজনই গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সম্রাটের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে প্রায় ১০ দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকার পর গত শনিবার দিবাগত রাতে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় আহত জোসনা বেগম বাদী হয়ে ২৮ জুন দুপচাঁচিয়া থানায় ১১ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ গত ১ জুলাই জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার দাড়ারকুল গ্রাম থেকে প্রধান আসামি আব্দুল করিম আকন্দ এবং তার স্ত্রী মিথিলা আক্তারকে (৪০) গ্রেপ্তার করে।
পরে তদন্তের স্বার্থে আদালতের অনুমতি নিয়ে আব্দুল করিমকে এক দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজমিলুর রহমান জানান, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আসামির কাছ থেকে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি 




















