বরগুনার বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়নের শেরেবাংলা গ্রামে ৩২ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হলেও এখনো তৈরি হয়নি সংযোগ সড়ক ও সুরক্ষা দেয়াল। ফলে সেতুটি ব্যবহার করতে গিয়ে দুই গ্রামের শত শত মানুষকে বাঁশ ও সুপারি গাছের ওপর ভর করে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে।
গত জুনে প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংযোগ সড়ক ও প্রটেকশন ওয়ালের কাজ শেষ করতে পারেনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, এতে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।
৩২ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতু
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম বেতাগী-বরগুনা আঞ্চলিক সড়কসংলগ্ন এলাকায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের অধীনে সেতুটি নির্মাণ করা হয়।
প্রকল্পের মেয়াদ গত জুনে শেষ হয়েছে। তবে সেতুর সঙ্গে ওঠানামার সংযোগ সড়ক এবং সুরক্ষা দেয়াল নির্মাণের কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটির এক প্রান্ত পানিতে ডুবে রয়েছে। এ ছাড়া নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই কাঠামোর কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে।
বাঁশ-সুপারি গাছই এখন ভরসা
সেতুর পূর্ব পাশে রয়েছে উত্তর করুণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থানীয় তেঁতুলিয়া বাজার, একটি মাদ্রাসা ও বেশ কয়েকটি জামে মসজিদ। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, মুসল্লিসহ এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ এই পথ দিয়ে চলাচল করেন।
কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুতে ওঠার সময় তাদের ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে সেতুর সঙ্গে বাঁশ ও সুপারি গাছ লাগিয়ে অস্থায়ী চলাচলের পথ তৈরি করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষক মো. শানু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সেতু নির্মাণ হলেও সংযোগ সড়ক হয়নি। ছোট শিশু শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাঁশ ও সুপারি গাছের ওপর ভর করে পার হতে হয়। যেকোনো সময় এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রব ও স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা শাহ জালাল বলেন, প্রতিদিন ইবাদত-বন্দেগি ও চলাচলের জন্য পুরো এলাকাবাসীকে এ ধরনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে।
বৃষ্টির কারণে কাজ বন্ধ থাকার দাবি ঠিকাদারের
অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার মো. প্রিন্স বলেন, বৃষ্টির কারণে সংযোগ সড়কের কাজ করা সম্ভব হয়নি। বর্ষাকাল শেষ হলে সংযোগ সড়ক ও সুরক্ষা দেয়ালের বাকি কাজ শেষ করার আশ্বাস দেন তিনি।
বেতাগী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার কাজ শেষ করার জন্য তাগাদা দেওয়া হয়েছে। বর্ষার কারণে কাজ আটকে থাকলেও আগামী নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনিয়মের অভিযোগে ঠিকাদারের বিল স্থগিত
বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহ. সাদ্দাম হোসেন বলেন, সেতুর কাজে অনিয়ম ও ত্রুটির প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়ার পরই ঠিকাদারের বিল স্থগিত রাখা হয়েছে।
সেতুর যেসব স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, সেগুলোও সংশোধন করতে বলা হয়েছে। সংযোগ সড়কসহ পুরো কাজ বিধি অনুযায়ী শেষ না করলে ঠিকাদারকে সরকারি বিলের কোনো অর্থই পরিশোধ করা হবে না বলে জানান তিনি।
ইউএনও আরও বলেন, সেতুটিতে কিছু সমস্যা হয়েছে এবং এ বিষয়ে তদন্ত করা হয়েছে। আগামী নভেম্বরের আগে সেখানে কাজ করা সম্ভব হবে না। কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার পর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিল পরিশোধ করা হবে। এখন পর্যন্ত কোনো অর্থ ছাড় করা হয়নি।
প্রতিবেদকের নাম 




















