ভারতীয় ক্রিকেট দলের পরবর্তী প্রধান কোচ হওয়ার আলোচনায় নাম উঠেছে সাবেক পেসার আশিস নেহরার। তবে জাতীয় দলের কোচ হওয়ার বিষয়ে এখনই কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দায়িত্ব নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।
বর্তমানে ভারতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ওপেনার গৌতম গম্ভীর। তাঁর অধীনে গত ৮ মার্চ আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত।
তবে গত জুলাইয়ে ইংল্যান্ড সফরে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে পারেনি ভারত। এরপর গম্ভীরের কোচিং নিয়ে সমালোচনা শুরু হয় এবং তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এরই মধ্যে পরবর্তী কোচ হিসেবে ভিভিএস লক্ষ্মণ ও আশিস নেহরার নাম আলোচনায় আসে।
‘কোচ হওয়ার কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই’
সিএবির বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ভারতীয় দলের কোচ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নেহরা বলেন, তিনি বর্তমানে এমন কোনো পরিকল্পনা করছেন না।
তিনি বলেন, ‘অ্যাম্বিশন’ শব্দটি তিনি ব্যবহার করবেন না। কোনো কিছু আগে থেকে পরিকল্পনা করার অভ্যাস তাঁর নেই। ভারতীয় দলের কোচ হওয়া নিঃসন্দেহে বড় সম্মান ও গর্বের বিষয় হবে বলেও জানান তিনি।
নেহরার ভাষায়, ভবিষ্যতে কী হবে তা সময়ই বলে দেবে। তবে বর্তমানে তিনি যেখানে আছেন, সেখানেই বেশ খুশি।
গুজরাটের সাফল্যকে কৃতিত্ব দেন পুরো দলকে
আইপিএলে গুজরাট টাইটান্সের প্রধান কোচ হিসেবে সাফল্যের কারণে জাতীয় দলের সম্ভাব্য কোচ হিসেবে নেহরার নাম আলোচনায় এসেছে।
তাঁর কোচিংয়ে ২০২২ সালে অভিষেক মৌসুমেই আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয় গুজরাট টাইটান্স। এরপর ২০২৩ ও ২০২৬ সালেও ফাইনালে ওঠে দলটি।
তবে গুজরাটের সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব নিজের নিতে নারাজ নেহরা। তাঁর মতে, এটি কোনো একজন কোচ বা অধিনায়কের সাফল্য নয়; বরং পুরো দলের সম্মিলিত পারফরম্যান্সের ফল।
নেহরা বলেন, অনেকেই তাঁর কোচিংয়ের প্রশংসা করেন। কিন্তু তিনি মনে করেন, সাফল্যকে শুধু কোচের সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক নয়। বিশেষ করে ভারতে দলের সাফল্যের সঙ্গে কোচ ও অধিনায়কের ভূমিকা বেশি করে দেখা হয়—যার সঙ্গে তিনি একমত নন।
‘স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে হবে, না হলে ডিভোর্স হয়ে যাবে’
জাতীয় দলের কোচ হওয়ার দায়িত্বের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ভ্রমণ ও পরিবারকে সময় দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন নেহরা।
এ প্রসঙ্গে মজার ছলে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে জাতীয় দলের কোচ হওয়ার বিষয়ে উত্তর দেওয়া কঠিন। কারণ, প্রথমে তাঁকে ‘হাই কমিশনের’ সঙ্গে কথা বলতে হবে—আর সেই হাই কমিশন তাঁর স্ত্রী।
নেহরা বলেন, ‘না হলে তো ডিভোর্স হয়ে যাবে!’
জাতীয় দলের কোচিংয়ের দায়িত্বে বছরে আট-নয় মাস ভ্রমণ করতে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাজটি মোটেই সহজ নয়। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর বিষয়টিও তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোচিংয়ের চাপ অনেক
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় কোচ হিসেবে কাজ করে যাওয়া যথেষ্ট কঠিন বলেও মনে করেন নেহরা।
তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কোচিংয়ে কাজের চাপ, নিয়মিত ভ্রমণ এবং দায়িত্বের পরিধি অনেক বেশি। এ কারণে খুব বেশি কোচই তিন-চার বছরের বেশি সময় এই দায়িত্বে থাকতে পারেননি।
নেহরা বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোচিংয়ের চাহিদা অনেক বেশি এবং ভ্রমণসহ সবকিছু মিলিয়ে দায়িত্বটি বেশ কঠিন।
জাতীয় দলের কোচ হওয়ার বিষয়ে এখনই কোনো পরিকল্পনা না থাকলেও ভবিষ্যতের সম্ভাবনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করছেন না নেহরা। সময় ও পরিস্থিতিই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবে তিনি ভারতীয় দলের দায়িত্ব নেবেন কি না।
প্রতিবেদকের নাম 

























