ঢাকা ১০:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
এমপিদের বেতন ৫ লাখ, মন্ত্রীদের ১০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব নুরুল হক নুরের রাষ্ট্রপতি পদে ড. ইউনূসকে কোনো প্রস্তাব নয়, আলোচনায় মির্জা ফখরুল: প্রতিবেদন মুরগি, ডিম ও দুধের দাম আবারও বেড়েছে, কমেছে কাঁচামরিচ; কিছুটা স্বস্তিতে সবজির বাজার ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে ঘিরে চাপ বাড়ছে, পাশে আর্জেন্টিনা ও মেক্সিকো ‘এক দফা’ আন্দোলনের নেপথ্যের প্রেক্ষাপট নিয়ে ফেসবুক পোস্টে যা বললেন রাশেদ খাঁন হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বাড়ল অপরিশোধিত তেলের দা বিদেশফেরত শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরিয়ে উন্নয়নে কাজে লাগাতে চায় সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনা: শিশুসহ নিহত ৯, দায় বেপরোয়া গতি ও ওভারটেকিং বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা: নিহত ৭, আহত অন্তত ২৩ ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ ঘোষণা
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com
তথ্য যাচাইয়ে থাকবে তিন স্তরের তদারকি, নারী সদস্যদের হাতে পৌঁছাবে সহায়তার অর্থ

১৬ আগস্ট চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, চার বছরে সুবিধার আওতায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৪:৫০:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ১১ সময় দেখুন

 

 

 

পাইলট প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের পর আগামী ১৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে সরকারের বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। প্রথম ধাপে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি একটি ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সুবিধাভোগীদের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে, যাতে প্রকৃত দরিদ্র কেউ বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে না পারেন।

আরও পড়ুনঃ  ‘৫ আগস্ট বিজয় ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দিন’

তিনি জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হবে। ভাতা ও সহায়তা বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করতে নিয়মিত তথ্য সংশোধন ও পর্যালোচনার ব্যবস্থা রাখা হবে।

জাহিদ হোসেন বলেন, মানুষের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে। কেউ দরিদ্র থেকে নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত হতে পারেন, আবার কেউ মধ্যবিত্ত থেকেও দরিদ্র অবস্থায় যেতে পারেন। তাই স্থায়ী তালিকার পরিবর্তে পরিবর্তনশীল তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে সুবিধা দেওয়া বা বঞ্চিত করার সুযোগ থাকবে না। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  দীপা হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে আজিজুল হক কলেজ শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, ১৬ আগস্ট উদ্বোধনের পর অক্টোবরের শেষ নাগাদ পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে কার্যক্রম শুরু হবে। একসঙ্গে সারাদেশে বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে ধাপে ধাপে কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি বলেন, চার বছরের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। তবে তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে সহায়তার অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। এই অর্থ শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, হাঁস-মুরগি পালন, বৃক্ষরোপণ, কুটিরশিল্প, সেলাই কাজ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রমে ব্যবহার করা যাবে। এর মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন বাড়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে বলে আশা করছে সরকার।

পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, দেশের ৫৬টি এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি এলাকায় তথ্য সংগ্রহে সমস্যা দেখা দিলেও তা সংশোধন করা হয়েছে। অধিকাংশ এলাকায় কার্যক্রমে বড় ধরনের কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুনঃ  শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ স্বজনদের অনেকে দেশের বাইরে

তিনি বলেন, আগামী ১৬ আগস্ট থেকে নতুন প্রশ্নমালা ও সম্পূর্ণ অনলাইন পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে। কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের তদারকি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তারা তথ্য সংগ্রহ করবেন। উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে তদারকি কমিটি কাজ করবে। জাতীয় পর্যায়েও থাকবে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি যেন একাধিক ভাতা বা সুবিধা গ্রহণ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয় তথ্য যাচাই করবে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

এমপিদের বেতন ৫ লাখ, মন্ত্রীদের ১০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব নুরুল হক নুরের

তথ্য যাচাইয়ে থাকবে তিন স্তরের তদারকি, নারী সদস্যদের হাতে পৌঁছাবে সহায়তার অর্থ

১৬ আগস্ট চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, চার বছরে সুবিধার আওতায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার

আপডেটের সময়: ০৪:৫০:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

 

 

 

পাইলট প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের পর আগামী ১৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে সরকারের বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। প্রথম ধাপে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি একটি ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সুবিধাভোগীদের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে, যাতে প্রকৃত দরিদ্র কেউ বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে না পারেন।

আরও পড়ুনঃ  সিলেটে শিশু ফাহিমা হত্যা মামলায় প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড

তিনি জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হবে। ভাতা ও সহায়তা বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করতে নিয়মিত তথ্য সংশোধন ও পর্যালোচনার ব্যবস্থা রাখা হবে।

জাহিদ হোসেন বলেন, মানুষের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে। কেউ দরিদ্র থেকে নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত হতে পারেন, আবার কেউ মধ্যবিত্ত থেকেও দরিদ্র অবস্থায় যেতে পারেন। তাই স্থায়ী তালিকার পরিবর্তে পরিবর্তনশীল তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে সুবিধা দেওয়া বা বঞ্চিত করার সুযোগ থাকবে না। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ স্বজনদের অনেকে দেশের বাইরে

সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, ১৬ আগস্ট উদ্বোধনের পর অক্টোবরের শেষ নাগাদ পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে কার্যক্রম শুরু হবে। একসঙ্গে সারাদেশে বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে ধাপে ধাপে কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি বলেন, চার বছরের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। তবে তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে সহায়তার অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। এই অর্থ শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, হাঁস-মুরগি পালন, বৃক্ষরোপণ, কুটিরশিল্প, সেলাই কাজ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রমে ব্যবহার করা যাবে। এর মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন বাড়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে বলে আশা করছে সরকার।

পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, দেশের ৫৬টি এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি এলাকায় তথ্য সংগ্রহে সমস্যা দেখা দিলেও তা সংশোধন করা হয়েছে। অধিকাংশ এলাকায় কার্যক্রমে বড় ধরনের কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুনঃ  আজ গোপালগঞ্জের যেসব এলাকায় টানা ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না

তিনি বলেন, আগামী ১৬ আগস্ট থেকে নতুন প্রশ্নমালা ও সম্পূর্ণ অনলাইন পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে। কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের তদারকি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তারা তথ্য সংগ্রহ করবেন। উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে তদারকি কমিটি কাজ করবে। জাতীয় পর্যায়েও থাকবে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি যেন একাধিক ভাতা বা সুবিধা গ্রহণ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয় তথ্য যাচাই করবে।