দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় থেকে আড়ালে রয়েছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। রুপালি পর্দা থেকে দূরে থাকা এই অভিনেত্রী এখন জীবনের বাকি সময়টা শান্তি ও সুন্দরভাবে কাটাতে চান। পাশাপাশি ধর্মীয় জীবনযাপনের প্রতিও নিজের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি এক গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে পপি বলেন, ‘সুন্দরভাবে বাঁচতে চাই। আল্লাহ-খোদার নাম নিতে চাই।’
তার এই বক্তব্যে চলচ্চিত্রের ব্যস্ততা ও রঙিন দুনিয়া থেকে নিজেকে আরও গুটিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘ ২৮ বছরের অভিনয়জীবনের নানা অভিজ্ঞতার পর এখন জীবনের ভিন্ন একটি অধ্যায়কে গুরুত্ব দিতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি।
নিজের অতীত জীবন নিয়েও আত্মবিশ্লেষণের কথা উঠে এসেছে পপির বক্তব্যে। তিনি বলেন, ‘যতটা পাপ কামিয়েছি, তার সবটা ধুয়েমুছে সুন্দরভাবে মরতে চাই।’
তার এমন মন্তব্যে জীবনের প্রতি নতুন উপলব্ধি, আত্মশুদ্ধির আকাঙ্ক্ষা এবং পরিবর্তনের ইচ্ছার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তবে অভিনয়ে ফেরার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেননি পপি। ২০২৫ সালে দীর্ঘ বিরতির পর কাজে ফেরার বিষয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, ফিরলে যেকোনো কাজ নয়, ভালো ও মানসম্মত কাজের মাধ্যমেই ফিরতে চান। যদিও ২০২৬ সালেও চলচ্চিত্রে তার প্রত্যাবর্তন এখনো অনিশ্চিত।
১৯৯৭ সালে ‘কুলি’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় পপির। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বাণিজ্যিক সিনেমার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশংসিত চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে অর্জন করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
করোনাভাইরাস মহামারির সময় দীর্ঘদিন শুটিং থেকে বিরতিতে ছিলেন এই অভিনেত্রী। নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। সুস্থ হওয়ার পর ২০২১ সালের শুরু থেকে মিডিয়াসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তার যোগাযোগ অনেকটাই কমে যায়। এরপর থেকেই তার ব্যক্তিজীবন নিয়ে বিভিন্ন ধরনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে বিয়ে ও সংসারজীবন নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়। পরে জানা যায়, পপি এক পুত্রসন্তানের মা হয়েছেন। তার ছেলের নাম আয়াত। বর্তমানে তার বয়স প্রায় চার বছর।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনের পর পপির সাম্প্রতিক বক্তব্যে এখন স্পষ্ট—রুপালি পর্দার ব্যস্ততার চেয়ে জীবনের শান্তি, আত্মশুদ্ধি ও ধর্মীয় অনুশীলনকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছেন।
প্রতিবেদকের নাম 




















