দুর্নীতি, সিন্ডিকেট ও নানা অনিয়মের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারও খুলতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। নতুন ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। প্রথম দফায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে ‘জিরো কস্টে’ মালয়েশিয়ায় নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দুই দেশের মধ্যে মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেন।
সরকারের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও চালুর পথ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
৩৩৮ এজেন্সি যুক্ত হচ্ছে
২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাইয়ের দায়িত্ব ছিল দেশটির সরকারের হাতে।
মালয়েশিয়া সরকারের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও নেপালের জন্য ২৫টি করে এবং পাকিস্তান, ভারত ও মিয়ানমারের জন্য ১০টি করে রিক্রুটিং এজেন্সি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য অনুমোদিত ২৫টি এজেন্সি আগে অন্তর্বর্তী সরকারের করা ৪২৩টি এজেন্সির তালিকায় ছিল। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সিন্ডিকেট ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বাদ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
দীর্ঘ ছয় মাসের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর মালয়েশিয়া সরাসরি নির্বাচিত ২৫টি এজেন্সির পাশাপাশি আরও ৩১২টি এজেন্সিকে অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি হিসেবে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে।
এর ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড—বোয়েসেলসহ মোট ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সি এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হচ্ছে।
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি এজেন্সিগুলোর যাচাই-বাছাই করেছে।
প্রথম দফায় ১০ হাজার কর্মী
বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে প্রথম দফায় ১০ হাজার কর্মীকে জিরো কস্টে মালয়েশিয়ায় নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
বিমান ভাড়াসহ অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন খরচ ছাড়াই এসব কর্মী মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন। বোয়েসেলের মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে প্রথম দফার কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এই ফ্লাইটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রমবাজারের নতুন যাত্রা শুরু হবে।
১৬ মেডিকেল সেন্টারে শুরু হবে পরীক্ষা
শ্রমবাজার দ্রুত চালুর জন্য বর্তমানে অনুমোদিত তালিকা থেকে বিতর্কিত মেডিকেল সেন্টারগুলো বাদ দিয়ে ১৬টি অনুমোদিত সেন্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের একটি যৌথ প্রতিনিধি দল শিগগির বাংলাদেশ সফর করবে। নতুন নীতিমালার আলোকে তারা মেডিকেল সেন্টারগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করবে।
কর্মীদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা
মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ, কর্মীদের সরাসরি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে যোগদান এবং নিয়মিত বেতন-ভাতা, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কর্মীদের অভিযোগ দ্রুত সমাধানের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল ও হেল্পডেস্ক চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
দালালদের টাকা দেবেন না
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু নিয়ে বিভিন্ন ধরনের গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কর্মী পাঠানোর সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যথাসময়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কাউকে টাকা না দেওয়া, মেডিকেল টেস্ট না করা এবং কোনো দালাল বা এজেন্সির কাছে পাসপোর্ট জমা না দেওয়ার জন্য সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগকে কেন্দ্র করে কোনো প্রতারকচক্র যাতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
প্রতিবেদকের নাম 




















