ঢাকা ০৮:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ: মন্ত্রী জ্বালানি খাতে লুটপাট বন্ধ ও দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই: ক্যাব ঢাকার নদী রক্ষায় ৩৭ সদস্যের কেন্দ্রীয় সেল, থাকছেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা দিশা সালিয়ানের মৃত্যু: পাঁচ বছর পর সিবিআই তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের টিসিবির পণ্য বিক্রিতে কমছে বাজারের মূল্যচাপ: বাণিজ্যমন্ত্রী বন্যার ধাক্কায় থমকে গেল নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি, বাংলাদেশে সরবরাহ শূন্য যাত্রীবিহীন উড়োজাহাজে তল্লাশি, সিটের নিচে ২০ কোটি টাকার সোনা ১৫ ঘণ্টা পর জামালপুরে দূরপাল্লার বাস চলাচল স্বাভাবিক গাজায় ভয়াবহ পয়ঃনিষ্কাশন সংকট, প্রতিদিন সাগরে যাচ্ছে ৪০ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য নেপালের ভয়াবহ বন্যায় ৯১ বছরের গুণা মায়ার অবিশ্বাস্য বেঁচে ফেরা
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

সুন্দরবনে সক্রিয় দস্যুদের হুঁশিয়ারি, ‘অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় নেই’

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৬:৪৯:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬ সময় দেখুন

সুন্দরবনে অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক আহসান হাবিব পলাশ। তিনি বলেছেন, অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যারা অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় বা অর্থের জোগান দেবে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) খুলনায় র‌্যাব-৬-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। সুন্দরবনের দস্যুদের আত্মসমর্পণ, বিপুল অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি খুলনাসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, সুন্দরবনে শান্তি ফিরিয়ে আনাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। অপরাধীদের অর্থদাতা এবং আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতারাও ছাড় পাবেন না।

আরও পড়ুনঃ  মাদক, চোরাচালান ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিজিবির প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

তিনি বলেন, ‘অস্ত্রধারী এবং সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় নেই। কোনো আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতার নাম পেলে তাদেরও কোনো ক্ষমা নেই। এ ক্ষেত্রে আমাদের ও সরকারের নীতি পরিষ্কার। অপরাধী যেই হোক, যেখানেই থাকুক, আমরা তার ব্যবস্থা নেব।’

আত্মসমর্পণ করেও অপরাধে ফিরেছেন ৩০ জন

আহসান হাবিব পলাশ জানান, ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সুন্দরবনে আত্মসমর্পণকারী ৩২৮ জন দস্যুর মধ্যে ৩০ জন পরবর্তী সময়ে আবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ফিরে গেছেন। তাদের মধ্যে বুধবারের অনুষ্ঠানে আত্মসমর্পণকারী আটজনও রয়েছেন।

তার ভাষ্য, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন কারণ, হয়রানির আশঙ্কা এবং ব্যক্তিগত অপরাধপ্রবণতার কারণে কেউ কেউ আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন। তবে সামগ্রিকভাবে দস্যুদের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে র‌্যাবের সাফল্য উল্লেখযোগ্য।

আরও পড়ুনঃ  সয়াবিন তেলের দাম বাড়ল

তিনি বলেন, যারা আত্মসমর্পণ করেছেন এবং ভবিষ্যতে করবেন, তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে আগের তুলনায় আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে।

৫৯ দস্যুর আত্মসমর্পণ, উদ্ধার ৫৯ আগ্নেয়াস্ত্র

আত্মসমর্পণ করা ৫৯ জন দস্যুর মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আফতার বাহিনীর আটজন এবং মিজান বাহিনীর সাতজন রয়েছেন।

সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব ৫৯টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৪টি খালি কার্তুজ এবং সাতটি ওয়াকি-টকি উদ্ধার করেছে।

উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে চারটি শটগান, ৪৭টি ওয়ান শুটার গান, চারটি পাইপগান, তিনটি এয়ারগান এবং একটি পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেল।

আরও পড়ুনঃ  শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল

সুন্দরবনে এখনো সক্রিয় ৪-৫ দস্যু বাহিনী

র‌্যাব সূত্র জানিয়েছে, সুন্দরবনের জলদস্যু ও বনদস্যু দমনে র‌্যাব, কোস্টগার্ড, স্থানীয় প্রশাসন, নৌপুলিশ ও বন বিভাগের সমন্বয়ে ‘অপারেশন রি-স্টার্ট, পিস ইন সুন্দরবন’ নামে বিশেষ অভিযান চলছে। গত ২ মার্চ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

র‌্যাব মহাপরিচালক জানান, বর্তমানে সুন্দরবনে চার থেকে পাঁচটি দস্যু বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। এসব বাহিনীর সদস্যদের অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে চেষ্টা চলছে।

এ ছাড়া খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নেও কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সরকারের কাছ থেকে বিশেষ নির্দেশনা পাওয়া গেছে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ: মন্ত্রী

সুন্দরবনে সক্রিয় দস্যুদের হুঁশিয়ারি, ‘অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় নেই’

আপডেটের সময়: ০৬:৪৯:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুন্দরবনে অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক আহসান হাবিব পলাশ। তিনি বলেছেন, অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যারা অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় বা অর্থের জোগান দেবে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) খুলনায় র‌্যাব-৬-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। সুন্দরবনের দস্যুদের আত্মসমর্পণ, বিপুল অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি খুলনাসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, সুন্দরবনে শান্তি ফিরিয়ে আনাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। অপরাধীদের অর্থদাতা এবং আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতারাও ছাড় পাবেন না।

আরও পড়ুনঃ  চুক্তিভিত্তিক বিয়ে নিয়ে ইসলামি শরিয়তের বিধান

তিনি বলেন, ‘অস্ত্রধারী এবং সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় নেই। কোনো আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতার নাম পেলে তাদেরও কোনো ক্ষমা নেই। এ ক্ষেত্রে আমাদের ও সরকারের নীতি পরিষ্কার। অপরাধী যেই হোক, যেখানেই থাকুক, আমরা তার ব্যবস্থা নেব।’

আত্মসমর্পণ করেও অপরাধে ফিরেছেন ৩০ জন

আহসান হাবিব পলাশ জানান, ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সুন্দরবনে আত্মসমর্পণকারী ৩২৮ জন দস্যুর মধ্যে ৩০ জন পরবর্তী সময়ে আবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ফিরে গেছেন। তাদের মধ্যে বুধবারের অনুষ্ঠানে আত্মসমর্পণকারী আটজনও রয়েছেন।

তার ভাষ্য, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন কারণ, হয়রানির আশঙ্কা এবং ব্যক্তিগত অপরাধপ্রবণতার কারণে কেউ কেউ আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন। তবে সামগ্রিকভাবে দস্যুদের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে র‌্যাবের সাফল্য উল্লেখযোগ্য।

আরও পড়ুনঃ  মাদক, চোরাচালান ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিজিবির প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

তিনি বলেন, যারা আত্মসমর্পণ করেছেন এবং ভবিষ্যতে করবেন, তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে আগের তুলনায় আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে।

৫৯ দস্যুর আত্মসমর্পণ, উদ্ধার ৫৯ আগ্নেয়াস্ত্র

আত্মসমর্পণ করা ৫৯ জন দস্যুর মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আফতার বাহিনীর আটজন এবং মিজান বাহিনীর সাতজন রয়েছেন।

সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব ৫৯টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৪টি খালি কার্তুজ এবং সাতটি ওয়াকি-টকি উদ্ধার করেছে।

উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে চারটি শটগান, ৪৭টি ওয়ান শুটার গান, চারটি পাইপগান, তিনটি এয়ারগান এবং একটি পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেল।

আরও পড়ুনঃ  এশিয়া-ইউরোপে চামড়াজাত পণ্যের বাজার বাড়াতে সরকারের নতুন উদ্যোগ

সুন্দরবনে এখনো সক্রিয় ৪-৫ দস্যু বাহিনী

র‌্যাব সূত্র জানিয়েছে, সুন্দরবনের জলদস্যু ও বনদস্যু দমনে র‌্যাব, কোস্টগার্ড, স্থানীয় প্রশাসন, নৌপুলিশ ও বন বিভাগের সমন্বয়ে ‘অপারেশন রি-স্টার্ট, পিস ইন সুন্দরবন’ নামে বিশেষ অভিযান চলছে। গত ২ মার্চ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

র‌্যাব মহাপরিচালক জানান, বর্তমানে সুন্দরবনে চার থেকে পাঁচটি দস্যু বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। এসব বাহিনীর সদস্যদের অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে চেষ্টা চলছে।

এ ছাড়া খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নেও কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সরকারের কাছ থেকে বিশেষ নির্দেশনা পাওয়া গেছে।