হৃদরোগকে অনেকে বেশি বয়সের সমস্যা মনে করেন। কিন্তু হৃদ্রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে অনেক আগেই—বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, অস্বাভাবিক কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন বা পারিবারিক ইতিহাস থাকলে। তাই উপসর্গ দেখা দেওয়ার অপেক্ষা না করে বয়স ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নরেশ ত্রেহানের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবারে হৃদ্রোগ বা ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে ২৫ বছর বয়সের মধ্যেই একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য মূল্যায়ন বিবেচনা করা যেতে পারে। সাধারণভাবে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে স্বাস্থ্য মূল্যায়নের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেছেন।
তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রচলিত নির্দেশনায় সবার জন্য একই বয়সে একই ধরনের হৃদযন্ত্রের পরীক্ষা নির্ধারিত নয়। বয়সের পাশাপাশি পারিবারিক ইতিহাস, রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, রক্তে শর্করা, ধূমপান, ওজন ও শারীরিক সক্রিয়তার মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়।
কোন পরীক্ষা কখন গুরুত্বপূর্ণ?
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় রক্তচাপ, ওজন এবং অন্যান্য হৃদ্রোগের ঝুঁকির বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। কোলেস্টেরল পরীক্ষা প্রাপ্তবয়স্ক বয়স থেকেই করা হয় এবং ঝুঁকি অনুযায়ী এর ব্যবধান নির্ধারণ করা হয়।
১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের উচ্চ রক্তচাপের জন্য স্ক্রিনিং করার পরামর্শ রয়েছে। স্বাভাবিক রক্তচাপ থাকলে পরীক্ষার ব্যবধান ব্যক্তির বয়স ও ঝুঁকির ওপর নির্ভর করতে পারে।
রক্তে শর্করার পরীক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বা অতিরিক্ত ওজনসহ অন্য ঝুঁকি থাকলে ডায়াবেটিসের স্ক্রিনিং প্রয়োজন হতে পারে।
পরিবারে হৃদরোগ থাকলে বাড়তি সতর্কতা
পরিবারে অল্প বয়সে হৃদ্রোগের ইতিহাস থাকলে বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো জরুরি। একইভাবে পরিবারে ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল বা উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস থাকলেও ব্যক্তিগত ঝুঁকি মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে।
ডা. ত্রেহানের পরামর্শ অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে আরও বিস্তারিত পরীক্ষা বিবেচনা করতে পারেন। তবে ট্রেডমিল টেস্ট, ইকোকার্ডিওগ্রামসহ বিশেষ পরীক্ষা সবার জন্য নিয়মিতভাবে প্রয়োজন হয় না—উপসর্গ ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন।
জীবনযাপনেও নজর জরুরি
শুধু পরীক্ষা করলেই হৃদ্স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকে না। নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। এসব ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখলে ভবিষ্যতে হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
তাই হৃদযন্ত্রের পরীক্ষা শুরু করার ক্ষেত্রে শুধু ‘কোন বয়সে’ প্রশ্নটির চেয়ে ‘আমার ঝুঁকি কতটা’—এই প্রশ্নটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোনো উপসর্গ বা পারিবারিক ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত।
প্রতিবেদকের নাম 




















