ঢাকা ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ আরও দুই অনুচ্ছেদে গণভোটের প্রস্তাব বিএনপির বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে কাভার্ডভ্যানের চাপায় মা-ছেলের মৃত্যু ৫৪ দেশের প্রতিনিধিদের ভোটে ডংফাং স্কলারশিপের অ্যাম্বাসেডর ডা. আউয়াল পরিসংখ্যান নয়, প্রভাবই গুরুত্বপূর্ণ: নিজেকে সর্বকালের সেরা বলতে নারাজ কোহলি শাহরুখকে দেখার আশায় মান্নাতের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতাম: রাজকুমার রাও জয়ের জন্মদিনে শাকিব-অপুর ভালোবাসার বার্তা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর: যুবলীগ নেতা শাহ আলম অনিক গ্রেপ্তার নারায়ণগঞ্জে দোকানে ডাকাতি, দেশীয় অস্ত্রসহ ৫ জন গ্রেপ্তার কুবির লাইব্রেরিতে আসন নিয়ে বিরোধ, পরে দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত ৮ নদী-খালের বেদখল জমি উদ্ধারে কঠোর সরকার: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

হৃদযন্ত্রের পরীক্ষা কখন থেকে? বয়স নয়, ঝুঁকির ওপরও নির্ভর করে

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৫:৫৮:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৮ সময় দেখুন

হৃদরোগকে অনেকে বেশি বয়সের সমস্যা মনে করেন। কিন্তু হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে অনেক আগেই—বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, অস্বাভাবিক কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন বা পারিবারিক ইতিহাস থাকলে। তাই উপসর্গ দেখা দেওয়ার অপেক্ষা না করে বয়স ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নরেশ ত্রেহানের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবারে হৃদ্‌রোগ বা ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে ২৫ বছর বয়সের মধ্যেই একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য মূল্যায়ন বিবেচনা করা যেতে পারে। সাধারণভাবে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে স্বাস্থ্য মূল্যায়নের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  জাসদ কার্যালয় ঘিরে যুবদলের অবস্থান, অর্ধশতাধিককে হেফাজতে নিল পুলিশ

তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রচলিত নির্দেশনায় সবার জন্য একই বয়সে একই ধরনের হৃদযন্ত্রের পরীক্ষা নির্ধারিত নয়। বয়সের পাশাপাশি পারিবারিক ইতিহাস, রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, রক্তে শর্করা, ধূমপান, ওজন ও শারীরিক সক্রিয়তার মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়।

কোন পরীক্ষা কখন গুরুত্বপূর্ণ?

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় রক্তচাপ, ওজন এবং অন্যান্য হৃদ্‌রোগের ঝুঁকির বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। কোলেস্টেরল পরীক্ষা প্রাপ্তবয়স্ক বয়স থেকেই করা হয় এবং ঝুঁকি অনুযায়ী এর ব্যবধান নির্ধারণ করা হয়।

১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের উচ্চ রক্তচাপের জন্য স্ক্রিনিং করার পরামর্শ রয়েছে। স্বাভাবিক রক্তচাপ থাকলে পরীক্ষার ব্যবধান ব্যক্তির বয়স ও ঝুঁকির ওপর নির্ভর করতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী

রক্তে শর্করার পরীক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বা অতিরিক্ত ওজনসহ অন্য ঝুঁকি থাকলে ডায়াবেটিসের স্ক্রিনিং প্রয়োজন হতে পারে।

পরিবারে হৃদরোগ থাকলে বাড়তি সতর্কতা

পরিবারে অল্প বয়সে হৃদ্‌রোগের ইতিহাস থাকলে বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো জরুরি। একইভাবে পরিবারে ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল বা উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস থাকলেও ব্যক্তিগত ঝুঁকি মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে।

ডা. ত্রেহানের পরামর্শ অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে আরও বিস্তারিত পরীক্ষা বিবেচনা করতে পারেন। তবে ট্রেডমিল টেস্ট, ইকোকার্ডিওগ্রামসহ বিশেষ পরীক্ষা সবার জন্য নিয়মিতভাবে প্রয়োজন হয় না—উপসর্গ ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন।

আরও পড়ুনঃ  ১৮তম বিজেএসে সুপারিশপ্রাপ্তদের শুভেচ্ছা জানালেন অ্যাটর্নি জেনারেল

জীবনযাপনেও নজর জরুরি

শুধু পরীক্ষা করলেই হৃদ্‌স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকে না। নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। এসব ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখলে ভবিষ্যতে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

তাই হৃদযন্ত্রের পরীক্ষা শুরু করার ক্ষেত্রে শুধু ‘কোন বয়সে’ প্রশ্নটির চেয়ে ‘আমার ঝুঁকি কতটা’—এই প্রশ্নটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোনো উপসর্গ বা পারিবারিক ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ আরও দুই অনুচ্ছেদে গণভোটের প্রস্তাব বিএনপির

হৃদযন্ত্রের পরীক্ষা কখন থেকে? বয়স নয়, ঝুঁকির ওপরও নির্ভর করে

আপডেটের সময়: ০৫:৫৮:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হৃদরোগকে অনেকে বেশি বয়সের সমস্যা মনে করেন। কিন্তু হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে অনেক আগেই—বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, অস্বাভাবিক কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন বা পারিবারিক ইতিহাস থাকলে। তাই উপসর্গ দেখা দেওয়ার অপেক্ষা না করে বয়স ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নরেশ ত্রেহানের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবারে হৃদ্‌রোগ বা ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে ২৫ বছর বয়সের মধ্যেই একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য মূল্যায়ন বিবেচনা করা যেতে পারে। সাধারণভাবে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে স্বাস্থ্য মূল্যায়নের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশ-সৌদি সম্পর্ক আরও গভীর করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রচলিত নির্দেশনায় সবার জন্য একই বয়সে একই ধরনের হৃদযন্ত্রের পরীক্ষা নির্ধারিত নয়। বয়সের পাশাপাশি পারিবারিক ইতিহাস, রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, রক্তে শর্করা, ধূমপান, ওজন ও শারীরিক সক্রিয়তার মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়।

কোন পরীক্ষা কখন গুরুত্বপূর্ণ?

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় রক্তচাপ, ওজন এবং অন্যান্য হৃদ্‌রোগের ঝুঁকির বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। কোলেস্টেরল পরীক্ষা প্রাপ্তবয়স্ক বয়স থেকেই করা হয় এবং ঝুঁকি অনুযায়ী এর ব্যবধান নির্ধারণ করা হয়।

১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের উচ্চ রক্তচাপের জন্য স্ক্রিনিং করার পরামর্শ রয়েছে। স্বাভাবিক রক্তচাপ থাকলে পরীক্ষার ব্যবধান ব্যক্তির বয়স ও ঝুঁকির ওপর নির্ভর করতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী

রক্তে শর্করার পরীক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বা অতিরিক্ত ওজনসহ অন্য ঝুঁকি থাকলে ডায়াবেটিসের স্ক্রিনিং প্রয়োজন হতে পারে।

পরিবারে হৃদরোগ থাকলে বাড়তি সতর্কতা

পরিবারে অল্প বয়সে হৃদ্‌রোগের ইতিহাস থাকলে বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো জরুরি। একইভাবে পরিবারে ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল বা উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস থাকলেও ব্যক্তিগত ঝুঁকি মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে।

ডা. ত্রেহানের পরামর্শ অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে আরও বিস্তারিত পরীক্ষা বিবেচনা করতে পারেন। তবে ট্রেডমিল টেস্ট, ইকোকার্ডিওগ্রামসহ বিশেষ পরীক্ষা সবার জন্য নিয়মিতভাবে প্রয়োজন হয় না—উপসর্গ ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন।

আরও পড়ুনঃ  প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরে ১১ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ ৩০ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত: মাহদী আমিন

জীবনযাপনেও নজর জরুরি

শুধু পরীক্ষা করলেই হৃদ্‌স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকে না। নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। এসব ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখলে ভবিষ্যতে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

তাই হৃদযন্ত্রের পরীক্ষা শুরু করার ক্ষেত্রে শুধু ‘কোন বয়সে’ প্রশ্নটির চেয়ে ‘আমার ঝুঁকি কতটা’—এই প্রশ্নটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোনো উপসর্গ বা পারিবারিক ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত।