ঢাকা ০৪:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কালিয়াকৈরে ধর্ষণের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, প্রেমিকার মৃত্যু, গ্রেপ্তার প্রেমিক সিইসির পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ আটক ২৬০ আকিজ গ্রুপে অফিসার নিয়োগ, সঙ্গে প্রভিডেন্ট ফান্ড-গ্র্যাচুইটিসহ নানা সুবিধা দুদকে ৩ উপপরিচালকসহ ১২ কর্মকর্তার পদে রদবদল গোল ও জোড়া অ্যাসিস্টে রাঙানো বিদায়, শেষ হলো আর্জেন্টিনায় মেসি অধ্যায় তিন বছরেও গাজায় শান্তি অধরা, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়েছে সংঘাত শিক্ষক সংকট নিরসনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক পুলে আবেদনের সময় বাড়ল স্রোতে ফেরি বন্ধ, বারবার ভোগান্তিতে নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া নৌরুটের যাত্রীরা মেয়ের চাপে ১০ লাখ টাকার হেরোইন নিয়ে যশোর থেকে ঢাকায় ৬৫ বছরের মা ৩০ ব্যাংকের কার্ড-এটিএম সেবা বন্ধ, কিউ-ক্যাশ কর্তৃপক্ষকে তলব
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

নথিবিহীন অভিবাসীদের ফেরাতে ইইউর নতুন কঠোর বিধিমালা অনুমোদন

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১০:৩৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ২১ সময় দেখুন

নথিবিহীন বা অনিয়মিত অবস্থায় থাকা অভিবাসীদের বহিষ্কার ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও কঠোর করতে নতুন বিধিমালায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এর ফলে সদস্য দেশগুলো অনিয়মিত অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো, আটক এবং ইউরোপে পুনঃপ্রবেশে নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত ক্ষমতা পাবে।

গত ১ অক্টোবর লুক্সেমবার্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইইউর কাউন্সিল নতুন ‘রিটার্ন রেগুলেশন’-এ আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়। এর আগে তিন মাস আগে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বিধিমালাটি অনুমোদন করেছিল।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বিদেশিকে সংশ্লিষ্ট সদস্য রাষ্ট্র ত্যাগের নির্দেশ দিলে তাকে তা মেনে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে। অন্যথায় আটক, বহিষ্কার বা ইউরোপে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

ইইউর বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ স্থাপনের সুযোগ

নতুন বিধিমালায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোতে ‘রিটার্ন হাব’ বা প্রত্যাবাসন কেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ধরনের কেন্দ্রে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত পাওয়া ব্যক্তিদের পাঠানো যেতে পারে।

তবে যেসব দেশে তাদের পাঠানো হবে, সেসব দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চুক্তি বা সমঝোতা থাকতে হবে এবং দেশগুলোকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড ও জোরপূর্বক ফেরত না পাঠানোর নীতি মেনে চলতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  হুথি মোকাবিলায় ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারকে ৪ উড়োজাহাজভর্তি অস্ত্র পাঠাল পাকিস্তান

অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্কদের এই ব্যবস্থার আওতায় না রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে শিশু-সন্তানসহ পরিবারকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রত্যাবাসন বা আটক ব্যবস্থার আওতায় আনা যেতে পারে।

২৪ মাস পর্যন্ত আটকের সুযোগ

নতুন বিধিমালায় প্রশাসনিক আটকের সর্বোচ্চ মেয়াদ ১৮ মাস থেকে বাড়িয়ে ২৪ মাস করার সুযোগ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন, নতুন তথ্য পাওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট তৃতীয় দেশের সঙ্গে সহযোগিতার উন্নতি হলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আরও ছয় মাস পর্যন্ত আটকের মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে।

কোনো ব্যক্তি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা না করলে, পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে অথবা নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হলে তাকে আটক রাখার সুযোগ থাকবে।

এমনকি কোনো তৃতীয় দেশের নাগরিক ইইউর অন্য সদস্য রাষ্ট্রে চলে গেলে তার ক্ষেত্রে নতুন করে আটকের সময় গণনার সুযোগও রাখা হয়েছে।

ইউরোপে প্রবেশে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা

নতুন বিধিমালায় ইউরোপে পুনঃপ্রবেশের ওপর সাধারণভাবে সর্বোচ্চ ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে এই নিষেধাজ্ঞা সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  ২৯ বছর পর প্রকাশ্যে, পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকেছিল ভারতের মিগ-২৫

ইইউ কাউন্সিলের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হলে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রবেশ ঠেকানো প্রয়োজন ও আনুপাতিক বলে বিবেচিত হলে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা সম্ভব হবে।

আপিল করলেও সবসময় বহিষ্কার স্থগিত হবে না

নতুন নিয়মে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহিষ্কার স্থগিত থাকবে—এমন বিধান বাতিল করা হয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আপিল চলমান থাকলেও বহিষ্কার কার্যকর হতে পারে।

এ ছাড়া প্রয়োজন হলে কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শরীর ও ব্যক্তিগত সামগ্রী তল্লাশি করতে পারবে। ব্যক্তিগত জিনিসপত্র এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করার ক্ষমতাও রাখা হয়েছে।

তবে এসব ব্যবস্থা প্রয়োগের সময় মৌলিক অধিকার, আইনি সুরক্ষা এবং কার্যকর প্রতিকারের সুযোগ নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে ইইউ।

সমর্থকদের দাবি, প্রত্যাবাসন কার্যকর হবে

ইইউর নতুন বিধিমালার সমর্থকদের মতে, নিজ দেশের সরকার যেসব অনিয়মিত অভিবাসীকে ফিরিয়ে নিতে অনিচ্ছুক, তাদের প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

বর্তমানে ইইউতে দেশ ছাড়ার নির্দেশ পাওয়া বিদেশিদের ক্ষেত্রে জারি করা বহিষ্কার আদেশের মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ বাস্তবে কার্যকর হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  গায়িকা অ্যালেক্সিস উইলকিনসের সঙ্গে বাগদান এফবিআই প্রধান ক্যাশ প্যাটেলের

ইইউর কাউন্সিলের সভাপতিত্বকারী দেশ আয়ারল্যান্ডের বিচার, স্বরাষ্ট্র ও অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রী জিম ও’ক্যালাহান বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার নির্দেশ পাওয়া প্রতি তিনজনের মধ্যে প্রায় দুজনই বাস্তবে ইইউ ত্যাগ করেন না।

মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ

নতুন বিধিমালা নিয়ে মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, ইইউর বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ স্থাপনের সুযোগ অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বেলজিয়ামভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা পিকাম (PICUM)-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন নিয়মের ফলে অভিবাসীদের আটক ও বহিষ্কারের পরিধি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে যেসব দেশের সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত বা সামাজিক কোনো সম্পর্ক নেই, সেসব দেশেও তাদের পাঠানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সমালোচকদের আরও আশঙ্কা, আটক বা বহিষ্কারের ভয়ে অনিয়মিত অবস্থায় থাকা অনেক মানুষ সরকারি সেবা গ্রহণ কিংবা সুরক্ষার আবেদন থেকেও দূরে সরে যেতে পারেন।

নতুন বিধিমালার বেশিরভাগ বিধান কার্যকর হতে এক বছর সময় লাগবে। তবে ‘রিটার্ন হাব’সংক্রান্ত বিধানগুলো দ্রুত কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

কালিয়াকৈরে ধর্ষণের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, প্রেমিকার মৃত্যু, গ্রেপ্তার প্রেমিক

নথিবিহীন অভিবাসীদের ফেরাতে ইইউর নতুন কঠোর বিধিমালা অনুমোদন

আপডেটের সময়: ১০:৩৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

নথিবিহীন বা অনিয়মিত অবস্থায় থাকা অভিবাসীদের বহিষ্কার ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও কঠোর করতে নতুন বিধিমালায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এর ফলে সদস্য দেশগুলো অনিয়মিত অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো, আটক এবং ইউরোপে পুনঃপ্রবেশে নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত ক্ষমতা পাবে।

গত ১ অক্টোবর লুক্সেমবার্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইইউর কাউন্সিল নতুন ‘রিটার্ন রেগুলেশন’-এ আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়। এর আগে তিন মাস আগে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বিধিমালাটি অনুমোদন করেছিল।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বিদেশিকে সংশ্লিষ্ট সদস্য রাষ্ট্র ত্যাগের নির্দেশ দিলে তাকে তা মেনে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে। অন্যথায় আটক, বহিষ্কার বা ইউরোপে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

ইইউর বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ স্থাপনের সুযোগ

নতুন বিধিমালায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোতে ‘রিটার্ন হাব’ বা প্রত্যাবাসন কেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ধরনের কেন্দ্রে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত পাওয়া ব্যক্তিদের পাঠানো যেতে পারে।

তবে যেসব দেশে তাদের পাঠানো হবে, সেসব দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চুক্তি বা সমঝোতা থাকতে হবে এবং দেশগুলোকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড ও জোরপূর্বক ফেরত না পাঠানোর নীতি মেনে চলতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  ভোটের দিন গ্রেপ্তার বাবরি মসজিদ প্রকল্পের উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবির

অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্কদের এই ব্যবস্থার আওতায় না রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে শিশু-সন্তানসহ পরিবারকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রত্যাবাসন বা আটক ব্যবস্থার আওতায় আনা যেতে পারে।

২৪ মাস পর্যন্ত আটকের সুযোগ

নতুন বিধিমালায় প্রশাসনিক আটকের সর্বোচ্চ মেয়াদ ১৮ মাস থেকে বাড়িয়ে ২৪ মাস করার সুযোগ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন, নতুন তথ্য পাওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট তৃতীয় দেশের সঙ্গে সহযোগিতার উন্নতি হলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আরও ছয় মাস পর্যন্ত আটকের মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে।

কোনো ব্যক্তি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা না করলে, পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে অথবা নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হলে তাকে আটক রাখার সুযোগ থাকবে।

এমনকি কোনো তৃতীয় দেশের নাগরিক ইইউর অন্য সদস্য রাষ্ট্রে চলে গেলে তার ক্ষেত্রে নতুন করে আটকের সময় গণনার সুযোগও রাখা হয়েছে।

ইউরোপে প্রবেশে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা

নতুন বিধিমালায় ইউরোপে পুনঃপ্রবেশের ওপর সাধারণভাবে সর্বোচ্চ ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে এই নিষেধাজ্ঞা সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  গায়িকা অ্যালেক্সিস উইলকিনসের সঙ্গে বাগদান এফবিআই প্রধান ক্যাশ প্যাটেলের

ইইউ কাউন্সিলের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হলে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রবেশ ঠেকানো প্রয়োজন ও আনুপাতিক বলে বিবেচিত হলে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা সম্ভব হবে।

আপিল করলেও সবসময় বহিষ্কার স্থগিত হবে না

নতুন নিয়মে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহিষ্কার স্থগিত থাকবে—এমন বিধান বাতিল করা হয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আপিল চলমান থাকলেও বহিষ্কার কার্যকর হতে পারে।

এ ছাড়া প্রয়োজন হলে কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শরীর ও ব্যক্তিগত সামগ্রী তল্লাশি করতে পারবে। ব্যক্তিগত জিনিসপত্র এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করার ক্ষমতাও রাখা হয়েছে।

তবে এসব ব্যবস্থা প্রয়োগের সময় মৌলিক অধিকার, আইনি সুরক্ষা এবং কার্যকর প্রতিকারের সুযোগ নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে ইইউ।

সমর্থকদের দাবি, প্রত্যাবাসন কার্যকর হবে

ইইউর নতুন বিধিমালার সমর্থকদের মতে, নিজ দেশের সরকার যেসব অনিয়মিত অভিবাসীকে ফিরিয়ে নিতে অনিচ্ছুক, তাদের প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

বর্তমানে ইইউতে দেশ ছাড়ার নির্দেশ পাওয়া বিদেশিদের ক্ষেত্রে জারি করা বহিষ্কার আদেশের মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ বাস্তবে কার্যকর হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  শি জিনপিংয়ের সফরসূচিতে হঠাৎ কাটছাঁট, বিশ্রামের জন্য বিশেষ কক্ষ—স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়ছে জল্পনা

ইইউর কাউন্সিলের সভাপতিত্বকারী দেশ আয়ারল্যান্ডের বিচার, স্বরাষ্ট্র ও অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রী জিম ও’ক্যালাহান বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার নির্দেশ পাওয়া প্রতি তিনজনের মধ্যে প্রায় দুজনই বাস্তবে ইইউ ত্যাগ করেন না।

মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ

নতুন বিধিমালা নিয়ে মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, ইইউর বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ স্থাপনের সুযোগ অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বেলজিয়ামভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা পিকাম (PICUM)-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন নিয়মের ফলে অভিবাসীদের আটক ও বহিষ্কারের পরিধি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে যেসব দেশের সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত বা সামাজিক কোনো সম্পর্ক নেই, সেসব দেশেও তাদের পাঠানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সমালোচকদের আরও আশঙ্কা, আটক বা বহিষ্কারের ভয়ে অনিয়মিত অবস্থায় থাকা অনেক মানুষ সরকারি সেবা গ্রহণ কিংবা সুরক্ষার আবেদন থেকেও দূরে সরে যেতে পারেন।

নতুন বিধিমালার বেশিরভাগ বিধান কার্যকর হতে এক বছর সময় লাগবে। তবে ‘রিটার্ন হাব’সংক্রান্ত বিধানগুলো দ্রুত কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।