বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার জন্য জুলাই মাসটি কি সত্যিই অপয়া? অতীতের পরিসংখ্যান অন্তত তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। জুলাই মাসে তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেও প্রতিবারই শিরোপা হারানোর তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে আর্জেন্টিনার।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে এই পরিসংখ্যানই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। যদিও কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ সালে প্রচণ্ড গরমের কারণে নভেম্বর-ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেই আসরে আর্জেন্টিনা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। তবে তাদের আগের দুটি বিশ্বকাপ শিরোপাই এসেছিল জুন মাসে। বিপরীতে, জুলাই মাসের ফাইনালগুলো আর্জেন্টিনার জন্য হয়ে উঠেছে হতাশার গল্প।
১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপের আসর অনুষ্ঠিত হয় জুলাই মাসে। ১৩ জুলাই শুরু হওয়া সেই টুর্নামেন্টের ফাইনাল হয় ৩০ জুলাই। ঐতিহাসিক সেই ম্যাচে উরুগুয়ের কাছে ৪-২ গোলে হেরে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায় আর্জেন্টিনার।
এরপর ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে আবারও জুলাই মাসে ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। গ্রুপপর্ব থেকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় দিয়েগো ম্যারাডোনার দল। কিন্তু ৮ জুলাইয়ের ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের।
একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে। লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা গ্রুপপর্ব থেকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত দুর্দান্ত খেলে ফাইনালে ওঠে। কিন্তু ১৩ জুলাইয়ের ফাইনালে আবারও জার্মানির কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে তারা।
এবার ২০২৬ বিশ্বকাপেও ফাইনালের মঞ্চে আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী স্পেন। নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচে আর্জেন্টিনা কি পারবে জুলাইয়ের সেই ব্যর্থতার ইতিহাস বদলে দিতে, নাকি পুরোনো স্মৃতি আবারও ফিরে আসবে—সেদিকেই তাকিয়ে ফুটবল বিশ্ব।
প্রতিবেদকের নাম 




















