ঢাকা ১০:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
‘তোমাকে ছাড়া এখনও বেঁচে আছি’, সুগন্ধি চালের দামে রেকর্ড উল্লম্ফন, এক মাসে কেজিতে বেড়েছে ৬০–৮০ টাকা শুটিং সেটে আহত রাশমিকা মান্দানা, ছয় সপ্তাহ বিশ্রামের পরামর্শ চিকিৎসকদের ঢাকার মঞ্চে প্রথমবার গান শোনাবেন পাকিস্তানি র‍্যাপার হাসান রহিম দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী ৪-৫ বছরের মধ্যে অর্থনীতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তনের আশা, উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক আগস্টে টানা বৃষ্টি ও বন্যার আভাস, সাগরে একাধিক লঘুচাপের শঙ্কা সাভারে মশাল মিছিলের সময় ৯ জন গ্রেপ্তার, জব্দ ব্যানার-মশাল ও মোটরসাইকেল জয়পুরহাট-নওগাঁর নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধে ইরানকে ভারতের আহ্বান
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

ইমাম বুখারি (রহ.): বুখারার এতিম বালক থেকে বিশ্বজয়ী হাদিস সম্রাট

 

 

উজবেকিস্তানের বুখারা শহরে ১৯৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন ইমাম বুখারি। শৈশবেই পিতৃহারা হন এবং ছোটবেলায় দৃষ্টিশক্তি হারালেও মায়ের দোয়ার বরকতে পুনরায় দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান—এমন একটি ঐতিহ্যবাহী বর্ণনা মুসলিম ইতিহাসে প্রচলিত রয়েছে।

অসাধারণ স্মৃতিশক্তির অধিকারী ইমাম বুখারি (রহ.) এক লাখ সহিহ ও দুই লাখ অ-সহিহ হাদিস মুখস্থ জানতেন বলে উল্লেখ করা হয়। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি জ্ঞানার্জনের জন্য মক্কা, মদিনা, বাগদাদ, মিশর, সিরিয়া ও নিশাপুরসহ বিভিন্ন জ্ঞানকেন্দ্র ভ্রমণ করেন।

আরও পড়ুনঃ  মেসেজে ‘কবুল’ বললেই কি বিয়ে সম্পন্ন হয়? ইসলাম কী বলছে

দীর্ঘ ১৬ বছরের পরিশ্রমে প্রায় ছয় লাখ হাদিস থেকে কঠোর যাচাই-বাছাই করে তিনি সংকলন করেন সহিহ আল-বুখারি। পুনরাবৃত্তিসহ এতে ৭,২৭৫টি হাদিস স্থান পায়। মুসলিম বিশ্বে পবিত্র আল-কুরআন-এর পর এই গ্রন্থকে সর্বাধিক বিশুদ্ধ গ্রন্থ হিসেবে ব্যাপকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  দরুদ পড়লে যেভাবে দূর হয় দুশ্চিন্তা

হাদিস গ্রহণে তিনি দুটি মৌলিক শর্ত অনুসরণ করতেন:

  • বর্ণনাকারী ও তার শিক্ষকের মধ্যে বাস্তব সাক্ষাতের প্রমাণ থাকতে হবে।
  • বর্ণনাকারীকে বিশ্বস্ত, স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন, ন্যায়পরায়ণ ও খোদাভীরু হতে হবে।

জীবনের শেষ পর্যায়ে সমসাময়িক কিছু আলেমের বিরোধিতা এবং শাসকের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে তিনি জন্মভূমি বুখারা ত্যাগ করতে বাধ্য হন। শেষ পর্যন্ত সমরখন্দের নিকটবর্তী খরতঙ্ক গ্রামে আশ্রয় নেন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন।

আরও পড়ুনঃ  দরুদ পড়লে যেভাবে দূর হয় দুশ্চিন্তা

প্রতিবেদনটিতে তার ইন্তেকালের পর কবর থেকে সুগন্ধ ছড়ানোর মতো কিছু ঐতিহ্যগত বর্ণনাও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বর্ণনা ধর্মীয় ঐতিহ্য ও জীবনীগ্রন্থে প্রচলিত থাকলেও সেগুলো ঐতিহাসিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন।

আজও ইমাম বুখারি এবং তার সংকলিত সহিহ আল-বুখারি মুসলিম উম্মাহর কাছে হাদিসশাস্ত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক প্রভাবশালী গ্রন্থ হিসেবে সমাদৃত।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

‘তোমাকে ছাড়া এখনও বেঁচে আছি’,

ইমাম বুখারি (রহ.): বুখারার এতিম বালক থেকে বিশ্বজয়ী হাদিস সম্রাট

আপডেটের সময়: ০৬:০১:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

 

 

উজবেকিস্তানের বুখারা শহরে ১৯৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন ইমাম বুখারি। শৈশবেই পিতৃহারা হন এবং ছোটবেলায় দৃষ্টিশক্তি হারালেও মায়ের দোয়ার বরকতে পুনরায় দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান—এমন একটি ঐতিহ্যবাহী বর্ণনা মুসলিম ইতিহাসে প্রচলিত রয়েছে।

অসাধারণ স্মৃতিশক্তির অধিকারী ইমাম বুখারি (রহ.) এক লাখ সহিহ ও দুই লাখ অ-সহিহ হাদিস মুখস্থ জানতেন বলে উল্লেখ করা হয়। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি জ্ঞানার্জনের জন্য মক্কা, মদিনা, বাগদাদ, মিশর, সিরিয়া ও নিশাপুরসহ বিভিন্ন জ্ঞানকেন্দ্র ভ্রমণ করেন।

আরও পড়ুনঃ  মেসেজে ‘কবুল’ বললেই কি বিয়ে সম্পন্ন হয়? ইসলাম কী বলছে

দীর্ঘ ১৬ বছরের পরিশ্রমে প্রায় ছয় লাখ হাদিস থেকে কঠোর যাচাই-বাছাই করে তিনি সংকলন করেন সহিহ আল-বুখারি। পুনরাবৃত্তিসহ এতে ৭,২৭৫টি হাদিস স্থান পায়। মুসলিম বিশ্বে পবিত্র আল-কুরআন-এর পর এই গ্রন্থকে সর্বাধিক বিশুদ্ধ গ্রন্থ হিসেবে ব্যাপকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  দরুদ পড়লে যেভাবে দূর হয় দুশ্চিন্তা

হাদিস গ্রহণে তিনি দুটি মৌলিক শর্ত অনুসরণ করতেন:

  • বর্ণনাকারী ও তার শিক্ষকের মধ্যে বাস্তব সাক্ষাতের প্রমাণ থাকতে হবে।
  • বর্ণনাকারীকে বিশ্বস্ত, স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন, ন্যায়পরায়ণ ও খোদাভীরু হতে হবে।

জীবনের শেষ পর্যায়ে সমসাময়িক কিছু আলেমের বিরোধিতা এবং শাসকের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে তিনি জন্মভূমি বুখারা ত্যাগ করতে বাধ্য হন। শেষ পর্যন্ত সমরখন্দের নিকটবর্তী খরতঙ্ক গ্রামে আশ্রয় নেন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন।

আরও পড়ুনঃ  দরুদ পড়লে যেভাবে দূর হয় দুশ্চিন্তা

প্রতিবেদনটিতে তার ইন্তেকালের পর কবর থেকে সুগন্ধ ছড়ানোর মতো কিছু ঐতিহ্যগত বর্ণনাও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বর্ণনা ধর্মীয় ঐতিহ্য ও জীবনীগ্রন্থে প্রচলিত থাকলেও সেগুলো ঐতিহাসিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন।

আজও ইমাম বুখারি এবং তার সংকলিত সহিহ আল-বুখারি মুসলিম উম্মাহর কাছে হাদিসশাস্ত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক প্রভাবশালী গ্রন্থ হিসেবে সমাদৃত।