
৮০০ একরজুড়ে গড়ে উঠছে মেগা অর্থনৈতিক অঞ্চল; ২০৩১ সালের মধ্যে সম্পন্ন হলে সৃষ্টি হবে এক লাখের বেশি কর্মসংস্থান, বাড়বে বৈদেশিক বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত
দীর্ঘ এক দশকের অপেক্ষা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং নানা প্রক্রিয়াগত বাধা অতিক্রম করে অবশেষে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল (চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন—সিইআইজেড)-এর নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। প্রায় ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই মেগা প্রকল্পকে দেশের শিল্পায়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং রপ্তানি খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর গড়ে উঠতে যাওয়া এই বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
কৌশলগত অবস্থানে বাড়তি সুবিধা
চট্টগ্রাম বন্দর, কর্ণফুলী টানেল এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় আনোয়ারার এই অর্থনৈতিক অঞ্চলকে একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক হাব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়া, চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত ও ব্যয়সাশ্রয়ী হবে।
দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে বাস্তবায়ন
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ২০১৪ সালে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর এবং ২০১৬ সালে জমি অধিগ্রহণের পরও প্রকল্পটি দীর্ঘদিন অগ্রগতি পায়নি। প্রশাসনিক জটিলতা, অর্থায়ন বিলম্ব এবং ডেভেলপার নিয়োগে বিলম্বের কারণে এটি স্থবির হয়ে পড়েছিল। সম্প্রতি দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ও নতুন সমঝোতার মাধ্যমে প্রকল্পটি আবারও গতি পায়।
এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি)-এর মধ্যে ডেভেলপার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ইতোমধ্যে চীনের একাধিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা বলা হয়েছে
নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এই অর্থনৈতিক অঞ্চল শুধু একটি শিল্প প্রকল্প নয়; এটি দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তৈরি পোশাক শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব
ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামাল ও আনুষঙ্গিক পণ্যের বড় অংশ বর্তমানে চীন থেকে আমদানি করতে হয়। আনোয়ারায় এসব কাঁচামাল উৎপাদন শুরু হলে আমদানি ব্যয় ও পরিবহন সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।
২০৩১ সালের মধ্যে কাজ শেষের লক্ষ্য
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ নির্মাণকাজ ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
প্রতিবেদকের নাম 




















