ঢাকা ১১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে চরম মানসিক চাপে মার্কিন নৌসেনারা ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ নিয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ, ইউএনওকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ সঞ্চয়পত্রের উৎসে কর পুনর্বহালসহ ৪ দাবি ঢাকা ট্যাক্সেস বারের রিমান্ড শেষে কারাগারে সাবেক যুগ্ম সচিব জগলুল পাশা রাজধানীতে নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল ধসে শিশুর মৃত্যু, আহত ২ গ্যাস সংকটে জামালপুর-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে চালকদের অবরোধ বগুড়ায় নিষিদ্ধ রাসায়নিক দিয়ে তৈরি ৩০ কেজি জিলাপি ধ্বংস নিজেদের স্বার্থেই শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে ভারত: রিজভী গ্যাস সংকটে চট্টগ্রামে কারখানায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে উৎপাদন দিল্লির আমন্ত্রণে তারেক রহমান কি ভারত সফরে যাবেন?
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

গ্যাস সংকটে চট্টগ্রামে কারখানায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে উৎপাদন

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৯:২০:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ১১ সময় দেখুন

চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় রড, পোশাক, জাহাজভাঙা, স্টিল স্ট্রাকচারসহ বিভিন্ন শিল্পে উৎপাদন কমে গেছে। কোনো কোনো কারখানায় পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে উৎপাদন।

গ্যাসের চাপ কম থাকায় নগরের বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনেও দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। একই সঙ্গে বাসাবাড়িতেও গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।

চাহিদার তুলনায় গ্যাসের ঘাটতি

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ ২৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট।

তবে বর্তমানে গড়ে মাত্র ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪৬ শতাংশ গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ২৭ আগস্ট শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

কেজিডিসিএল সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে দৈনিক ৩১২ থেকে ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে সার কারখানায় ৯০ থেকে ১০০, বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রায় ৪০ এবং সিএনজি স্টেশনে প্রায় ১৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। বাকি গ্যাস আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতে সরবরাহ করা হয়।

কারখানায় উৎপাদন নেমেছে ৪০ শতাংশে

গ্যাস সংকটের বড় প্রভাব পড়েছে শিল্প উৎপাদনে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, রড, পোশাক, জাহাজভাঙা, স্টিল স্ট্রাকচারসহ বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে।

গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্রও চালু রাখা যাচ্ছে না।

সীতাকুণ্ডে কেডিএস গ্রুপের একটি কারখানায় গ্যাস সংকটের কারণে বুধবার রাত থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কারখানাটির এক কর্মকর্তা জানান, গ্যাসের অভাবে ফিড ওয়াটার পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

আরও পড়ুনঃ  ফেসবুক পোস্টের মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে গাজী সালাউদ্দিন

এ ছাড়া পিএইচপি গ্রুপ ও টিকে গ্রুপের একাধিক কারখানাতেও গ্যাস সংকটে উৎপাদন প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলসের (বিএসআরএম) ডেপুটি ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন সেনগুপ্ত জানান, বুধবার থেকে তাদের কারখানার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে ব্যবসায় মন্দাভাবের মধ্যে গত ২০ দিন ধরে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

বিদ্যুৎ উৎপাদনেও সংকট

গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। ২২৫ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিন প্রায় ৩৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হলেও পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ২৮ মিলিয়ন ঘনফুট।

গ্যাসের ঘাটতির কারণে রাউজান, আনোয়ারাসহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট বন্ধ রয়েছে।

সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। বুধবার (১২ আগস্ট) অনেক চালককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  রাশিয়ার পাশে উত্তর কোরিয়া, এবার দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তা চায় ইউক্রেন

সিএনজি স্টেশন মালিকরা জানান, গ্যাসের চাপ কমে গেলে স্টেশন থেকে সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়। চাপ কিছুটা বাড়লে আবার সরবরাহ চালু করা হয়। ফলে গ্যাস সরবরাহের ওপর নির্ভর করেই স্টেশনগুলোতে যানবাহনের চাপ বাড়ছে ও কমছে।

দ্রুত সমাধানের দাবি

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, কয়েকদিনের গ্যাস সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও বেড়েছে। শিল্প উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সরকার দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কেজিডিসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক (বিতরণ উত্তর) প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিক খান বলেন, বর্তমানে চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ কম। দৈনিক বরাদ্দ ২৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও পাওয়া যাচ্ছে ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে চরম মানসিক চাপে মার্কিন নৌসেনারা

গ্যাস সংকটে চট্টগ্রামে কারখানায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে উৎপাদন

আপডেটের সময়: ০৯:২০:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় রড, পোশাক, জাহাজভাঙা, স্টিল স্ট্রাকচারসহ বিভিন্ন শিল্পে উৎপাদন কমে গেছে। কোনো কোনো কারখানায় পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে উৎপাদন।

গ্যাসের চাপ কম থাকায় নগরের বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনেও দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। একই সঙ্গে বাসাবাড়িতেও গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।

চাহিদার তুলনায় গ্যাসের ঘাটতি

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ ২৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট।

তবে বর্তমানে গড়ে মাত্র ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪৬ শতাংশ গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  আদালতে গিয়েও বিচারকের দেখা পেলেন না প্রত্যাহার হওয়া সেই ওসি

কেজিডিসিএল সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে দৈনিক ৩১২ থেকে ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে সার কারখানায় ৯০ থেকে ১০০, বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রায় ৪০ এবং সিএনজি স্টেশনে প্রায় ১৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। বাকি গ্যাস আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতে সরবরাহ করা হয়।

কারখানায় উৎপাদন নেমেছে ৪০ শতাংশে

গ্যাস সংকটের বড় প্রভাব পড়েছে শিল্প উৎপাদনে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, রড, পোশাক, জাহাজভাঙা, স্টিল স্ট্রাকচারসহ বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে।

গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্রও চালু রাখা যাচ্ছে না।

সীতাকুণ্ডে কেডিএস গ্রুপের একটি কারখানায় গ্যাস সংকটের কারণে বুধবার রাত থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কারখানাটির এক কর্মকর্তা জানান, গ্যাসের অভাবে ফিড ওয়াটার পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

আরও পড়ুনঃ  ২৭ আগস্ট শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

এ ছাড়া পিএইচপি গ্রুপ ও টিকে গ্রুপের একাধিক কারখানাতেও গ্যাস সংকটে উৎপাদন প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলসের (বিএসআরএম) ডেপুটি ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন সেনগুপ্ত জানান, বুধবার থেকে তাদের কারখানার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে ব্যবসায় মন্দাভাবের মধ্যে গত ২০ দিন ধরে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

বিদ্যুৎ উৎপাদনেও সংকট

গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। ২২৫ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিন প্রায় ৩৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হলেও পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ২৮ মিলিয়ন ঘনফুট।

গ্যাসের ঘাটতির কারণে রাউজান, আনোয়ারাসহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট বন্ধ রয়েছে।

সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। বুধবার (১২ আগস্ট) অনেক চালককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  রাশিয়ার পাশে উত্তর কোরিয়া, এবার দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তা চায় ইউক্রেন

সিএনজি স্টেশন মালিকরা জানান, গ্যাসের চাপ কমে গেলে স্টেশন থেকে সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়। চাপ কিছুটা বাড়লে আবার সরবরাহ চালু করা হয়। ফলে গ্যাস সরবরাহের ওপর নির্ভর করেই স্টেশনগুলোতে যানবাহনের চাপ বাড়ছে ও কমছে।

দ্রুত সমাধানের দাবি

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, কয়েকদিনের গ্যাস সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও বেড়েছে। শিল্প উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সরকার দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কেজিডিসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক (বিতরণ উত্তর) প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিক খান বলেন, বর্তমানে চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ কম। দৈনিক বরাদ্দ ২৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও পাওয়া যাচ্ছে ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।