ঢাকা ০৫:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন রেকর্ড, পণ্য পরিবহন ও রাজস্ব আদায়ে ইতিহাস

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর পণ্য পরিবহন ও রাজস্ব আদায়ে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। বিদায়ী অর্থবছরে বন্দরটি দিয়ে প্রায় সোয়া ১১ কোটি টন পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়েছে, যার সম্মিলিত শুল্কায়িত মূল্য ১১ লাখ কোটি টাকারও বেশি। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহন ও শুল্কায়ন কার্যক্রম থেকে সরকারি কোষাগার এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মোট রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ১০ কোটি ৭৫ লাখ টন আমদানি পণ্য খালাস করা হয়েছে। এসব পণ্যের শুল্কায়িত মূল্য ছিল প্রায় ৫ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা। এই আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ভিত্তি করে চট্টগ্রাম কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলোর মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকা

আরও পড়ুনঃ  জুলাইয়ে পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ১২.৪৯ শতাংশ, তৈরি পোশাক খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি

তুলনামূলক হিসেবে দেখা যায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরের তুলনায় আমদানিকৃত পণ্যের পরিমাণ ৬ শতাংশ এবং রাজস্ব আদায় প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের অর্থবছরে এই খাত থেকে সরকারের আয় ছিল ৭৮ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা

রপ্তানি বাণিজ্যেও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। বিদায়ী অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৪৯ লাখ টন পণ্য বিদেশে রপ্তানি হয়েছে, যার শুল্কায়িত মূল্য প্রায় ৫ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। আগের বছরের তুলনায় রপ্তানি পণ্যের পরিমাণ ৪ শতাংশ বাড়লেও শুল্কায়িত মূল্যের প্রবৃদ্ধি ছিল ১ শতাংশের নিচে। যদিও অধিকাংশ রপ্তানি পণ্যে সরাসরি শুল্ক আরোপ করা হয় না, তবুও বৈদেশিক বাণিজ্যের এই সম্প্রসারণ দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুনঃ  এসএ২০-তে খেলবেন রিশাদ হোসেন

শুধু রাজস্ব নয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব আয়েও এসেছে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বন্দরের পরিচালন আয় ছিল ৩ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা, যা ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ৮৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। কনটেইনার ও বাল্ক কার্গো পরিবহন বৃদ্ধি এবং ট্যারিফ সমন্বয়ের কারণে এই রেকর্ড আয় সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  নলকায় বাসে ট্রাকের ধাক্কা, চালকসহ নিহত ২

চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে সরকারি আয়ের পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। বেসরকারি কনটেইনার ডিপো, শিপিং লাইন, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং পরিবহন খাতের হাজারো প্রতিষ্ঠান সরাসরি এই বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। যদিও এসব খাতের সম্মিলিত আর্থিক লেনদেনের কোনো কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান নেই, সংশ্লিষ্টদের ধারণা অনুযায়ী সরকারি রাজস্বের বাইরে প্রতিবছর আরও কয়েক হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক কার্যক্রম চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন রেকর্ড, পণ্য পরিবহন ও রাজস্ব আদায়ে ইতিহাস

আপডেটের সময়: ০৯:০০:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর পণ্য পরিবহন ও রাজস্ব আদায়ে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। বিদায়ী অর্থবছরে বন্দরটি দিয়ে প্রায় সোয়া ১১ কোটি টন পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়েছে, যার সম্মিলিত শুল্কায়িত মূল্য ১১ লাখ কোটি টাকারও বেশি। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহন ও শুল্কায়ন কার্যক্রম থেকে সরকারি কোষাগার এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মোট রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ১০ কোটি ৭৫ লাখ টন আমদানি পণ্য খালাস করা হয়েছে। এসব পণ্যের শুল্কায়িত মূল্য ছিল প্রায় ৫ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা। এই আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ভিত্তি করে চট্টগ্রাম কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলোর মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকা

আরও পড়ুনঃ  শতবর্ষে না ফেরার দেশে সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এ. আর. খান

তুলনামূলক হিসেবে দেখা যায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরের তুলনায় আমদানিকৃত পণ্যের পরিমাণ ৬ শতাংশ এবং রাজস্ব আদায় প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের অর্থবছরে এই খাত থেকে সরকারের আয় ছিল ৭৮ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা

রপ্তানি বাণিজ্যেও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। বিদায়ী অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৪৯ লাখ টন পণ্য বিদেশে রপ্তানি হয়েছে, যার শুল্কায়িত মূল্য প্রায় ৫ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। আগের বছরের তুলনায় রপ্তানি পণ্যের পরিমাণ ৪ শতাংশ বাড়লেও শুল্কায়িত মূল্যের প্রবৃদ্ধি ছিল ১ শতাংশের নিচে। যদিও অধিকাংশ রপ্তানি পণ্যে সরাসরি শুল্ক আরোপ করা হয় না, তবুও বৈদেশিক বাণিজ্যের এই সম্প্রসারণ দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুনঃ  ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নতুন বিআইএন ব্যবহারের নির্দেশ

শুধু রাজস্ব নয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব আয়েও এসেছে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বন্দরের পরিচালন আয় ছিল ৩ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা, যা ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ৮৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। কনটেইনার ও বাল্ক কার্গো পরিবহন বৃদ্ধি এবং ট্যারিফ সমন্বয়ের কারণে এই রেকর্ড আয় সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমে শিশুর ভাষা বিকাশে কী প্রভাব পড়ে?

চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে সরকারি আয়ের পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। বেসরকারি কনটেইনার ডিপো, শিপিং লাইন, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং পরিবহন খাতের হাজারো প্রতিষ্ঠান সরাসরি এই বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। যদিও এসব খাতের সম্মিলিত আর্থিক লেনদেনের কোনো কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান নেই, সংশ্লিষ্টদের ধারণা অনুযায়ী সরকারি রাজস্বের বাইরে প্রতিবছর আরও কয়েক হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক কার্যক্রম চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়।