রংপুর নগরীর ঠিকাদারপাড়া মোড়ে একটি অস্থায়ী দুর্গামন্দিরের জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন আটকে রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠক হলেও জমি নিয়ে বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। তবে বৈঠক শেষে প্রতিমা বিসর্জনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান।
জেলা প্রশাসক জানান, আগামী রোববার (২৫ অক্টোবর) বিচারকের সঙ্গে কথা বলে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে বৈঠক শুরু হয়। রাত ৮টার দিকে বৈঠক শেষে জমির মালিকানা দাবিদার রীতা রানী রায় অভিযোগ করেন, জেলা আওয়ামী কৃষক লীগের নেতা প্রাণকৃষ্ণ গোস্বামী প্রান্নু তাঁদের পারিবারিক জমি জোর করে দখলের চেষ্টা করছেন। ওই জমিতে অস্থায়ী পূজামণ্ডপকে স্থায়ী মন্দিরে রূপ দেওয়ারও চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রীতা রানী রায় বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসেও তাঁরা ন্যায়বিচার পাননি। বিজয়া দশমীর পরও প্রতিমা বিসর্জন না দিয়ে জমিটি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী কমল গোস্বামী বলেন, আদালত যে রায় দেবেন, তাঁরা তা মেনে নেবেন।
বৈঠক শেষে জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান বলেন, প্রতিমা বিসর্জন না দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়েছে। এখন প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে। আগামী রোববার বিচারকের সঙ্গে কথা বলে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে রংপুরে সবাই শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারেন।
এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে অস্থায়ী মন্দিরের জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ তীব্র হয়। একপর্যায়ে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়। পরে সেখানে এসআরবি সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়।
জমির মালিকানা দাবিদার পক্ষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপূজার জন্য অস্থায়ীভাবে ব্যবহৃত তাঁদের পারিবারিক জমিটি দখলের চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, মন্দির কমিটির দাবি, জমিটি মন্দিরের নামে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে কেনার জন্য বায়না করা হলেও মালিকপক্ষ দলিল নিবন্ধন করে দিচ্ছে না। এ বিরোধের মধ্যে স্থায়ীভাবে কালীমন্দির নির্মাণের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বুধবার রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়নি। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে বিসর্জনের নির্দেশ দেওয়া হলেও মন্দির কমিটি তাতে সম্মত হয়নি। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বৈঠকের পর বিসর্জনের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। তবে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের চূড়ান্ত সমাধান এখনো হয়নি।
রংপুর প্রতিনিধি 
























