জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে গণমানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, দেশের মানুষ যখন ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন সবচেয়ে শক্তিশালী ও দুর্ভেদ্য ব্যবস্থাকেও পরিবর্তন করা সম্ভব।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বুধবার (৫ আগস্ট) ইউনূস সেন্টারের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. ইউনূস বলেন, জুলাই শুধু একটি মাসের নাম নয়, এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে ৩৬ দিনের গণসংগ্রাম ও আত্মত্যাগের স্মারক। এই সময় দেশের সর্বস্তরের মানুষ অভূতপূর্ব ঐক্য ও সাহসিকতার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একসঙ্গে দাঁড়িয়েছিল।
বিবৃতিতে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ হওয়া সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি আহত, দৃষ্টিশক্তি হারানো এবং স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করা ব্যক্তিদের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণি বা গোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না। এতে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, পাবলিক, প্রাইভেট ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক, সাংবাদিক, আলোকচিত্রী, পথচারী, রাজনীতিবিদ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, লেখক, শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী, রিকশাচালক, শ্রমজীবী মানুষ, বিভিন্ন পেশাজীবী, চিকিৎসক এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
নারীদের অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, জুলাই আন্দোলনে তাদের সাহসিকতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারীদের অনুপ্রাণিত করবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বাংলাদেশের তরুণ সমাজের জন্য দীর্ঘদিন প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের মানুষকে ঐক্যের শক্তি সম্পর্কে নতুন উপলব্ধি দিয়েছে। গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে দৃঢ় সংকল্পের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং এটি জাতির ঐক্য, সাহস এবং গণতান্ত্রিক চেতনার শক্তিশালী প্রতীক, যা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনের পথচলায় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
প্রতিবেদকের নাম 



















