দেশে প্রথমবারের মতো চালু হতে যাচ্ছে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই)। এ উদ্যোগের আওতায় বাস্তবায়ন করা হবে ‘এক নাগরিক, এক ডিজিটাল আইডি, এক ডিজিটাল ওয়ালেট’ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে একটি মাত্র ডিজিটাল পরিচয় ব্যবহার করেই নাগরিকরা সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ গণমাধ্যমকে জানান, আগামী মাস থেকেই এ প্রকল্পের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো শিশুর জন্মের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার জন্য একটি ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডি তৈরি হবে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, ভূমি সেবা, বিআরটিএসহ বিভিন্ন সরকারি সেবার তথ্য একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে যুক্ত থাকবে।
এর ফলে নাগরিকদের বারবার একই তথ্য জমা দেওয়া বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আলাদা পরিচয়পত্র ব্যবহার করার প্রয়োজন হবে না। একটি মাত্র ডিজিটাল আইডির মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় সরকারি সেবা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি স্মার্টফোনভিত্তিক ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে জাতীয় পরিচয়, বিভিন্ন ডিজিটাল ক্রেডেনশিয়াল এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি সংরক্ষণ করা যাবে। সরকারি সেবায় লগইন, পরিচয় যাচাই এবং প্রয়োজনে ফিজিক্যাল পরিচয়পত্রের বিকল্প হিসেবেও এটি ব্যবহার করা যাবে।
কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুর তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে জন্ম নিবন্ধন ব্যবস্থায় যুক্ত হবে এবং বাবা-মায়ের এনআইডির তথ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থায়ী ডিজিটাল আইডি তৈরি করা হবে। বাসায় জন্ম নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রেও পৃথক ব্যবস্থা রাখা হবে।
এদিকে, নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ব্যবহারকারীর সম্মতি ছাড়া কোনো ব্যক্তিগত তথ্য অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার সঙ্গে শেয়ার করা হবে না। পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হবে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন এবং জাতীয় ডেটা গভর্নেন্স নীতিমালা অনুসরণ করে।
জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ‘ডি-স্টার (Digital Service Transformation for Access and Resilience)’ প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এস্তোনিয়া ও সিঙ্গাপুরের ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি আধুনিক কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















