চেয়ারম্যান নিয়োগকে ঘিরে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি তারল্য সংকটে পড়েছে। এ অবস্থায় ব্যাংকটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ সহায়তা চেয়ে আবেদন করেছে।
ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি আমানত উত্তোলন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় তারল্য চাপে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। ঈদের ছুটির পর টানা পাঁচ কার্যদিবসে জমার তুলনায় প্রায় ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বেশি উত্তোলন হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাড়তি উত্তোলনের কারণে ব্যাংকটি বিধিবদ্ধ নগদ জমা (সিআরআর) সংরক্ষণেও চাপে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে বিশেষ তহবিল সহায়তার আবেদন করা হয়।
একজন কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত হিসাবে এখনো কিছু অর্থ থাকলেও সিআরআর ঘাটতি মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই সহায়তা চাওয়া হয়েছে। আগে ব্যাংকের চলতি হিসাবে ৭ হাজার ১৫ কোটি টাকার বেশি অর্থ থাকলেও তা কমে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
ব্যাংকটি ২০২২ সাল থেকেই বিভিন্ন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পর থেকে এর কার্যক্রমে অস্থিরতা দেখা দেয়। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ব্যাংকটির সুশাসন ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক একাধিক পদক্ষেপ নেয়।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর “ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম” নামে একটি পক্ষ তার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল এস আলম গ্রুপের হাতে। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়।
প্রতিবেদকের নাম 
























