পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর বালুমহাল ও বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে কফি হাউসে হামলা ও এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে চলতি বছরের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধ ও গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাতভর ঈশ্বরদী থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের মাঝদিয়া বড়পাড়ায় পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার আহত ব্যক্তিরা ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
তিনটি স্পিডবোটে এসে হামলা
পুলিশ, ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় পদ্মাতীরের একটি কফি হাউসে কয়েকজন বসে কফি পান করছিলেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনটি স্পিডবোটে করে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি নদীতীরে এসে নামেন। এরপর তাঁরা কফি হাউস লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ ও হামলা চালান।
মুহুর্মুহু গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে কফি হাউসে থাকা মানুষজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ছোটাছুটি শুরু করেন। একপর্যায়ে আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করে।
আহতদের মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার্থী
হামলায় আহতরা হলেন সাঁড়া ইউনিয়নের মাঝদিয়া খাঁ পাড়া গ্রামের হামিদুল প্রামাণিকের ছেলে ও চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী অয়ন প্রামাণিক (১৭), মাঝদিয়া স্কুলপাড়া এলাকার সুরত আলীর ছেলে সানোয়ার হোসেন (২৬) এবং পৌর শহরের পূর্ব টেংরি আমবাগান এলাকার আমানউল্লাহ খাঁর ছেলে আকাশ খাঁ (২৬)। এ ছাড়া আরও দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আহত অয়ন প্রামাণিকের বড় ভাই মো. অন্তর জানান, এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। সাধারণ মানুষ পদ্মাতীরে অবসর কাটাতে ও কফি পান করতে গেলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা কফি হাউসে ঢুকে অয়নের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন এবং এলোপাতাড়ি গুলি চালান বলে তাঁর অভিযোগ।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আকাশ খাঁ বলেন, তাঁরা কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। সাধারণ মানুষ হিসেবে কফি খেতে গিয়েছিলেন। হঠাৎ গোলাগুলির শব্দ শুনে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করলে তাঁর মাথায় গুলি লাগে।
আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাবেরি সাহা জানান, আহতদের একজনের মাথায় গুলি লেগেছিল। তবে গুলিটি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। অন্যদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। তাঁদের ক্ষতস্থানে জরুরি ভিত্তিতে সেলাই দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে আহতদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তাঁরা আশঙ্কামুক্ত।
বালু ব্যবসার বিরোধে উত্তেজনা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ঈশ্বরদীর সাঁড়া এলাকায় পদ্মা নদীর বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি চলছিল। পুলিশ ও প্রশাসনের প্রাথমিক ধারণা, এই বিরোধের ধারাবাহিকতায় গুলিবর্ষণ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত দুজনকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। পদ্মার বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এলাকায় দুটি পক্ষের বিরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদকের নাম 























