২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহারের ঘটনায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বইয়ের নকশা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এর অংশ হিসেবে মাঠপর্যায়ে পাঠানো প্রায় ২০ থেকে ৩০ লাখ বই ফেরত এনে দাঁড়িপাল্লার পরিবর্তে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি যুক্ত করে পুনর্মুদ্রণ করা হবে। এতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে বইটির মুদ্রণ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। সংশোধিত বই আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বইটির ‘উপাত্ত ও তথ্য’ অধ্যায়ে জ্ঞানের পিরামিডের চারটি স্তর—উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা তুলে ধরা হয়েছে। এর সর্বোচ্চ স্তর প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি প্রতীকের সঙ্গে ছবিটির মিল থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এনসিটিবির দাবি, ২০২৫ সালের বইয়ের পুরোনো নকশা ভুলক্রমে আবার যুক্ত হয়েছিল।
এদিকে, আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক্-প্রাথমিক থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ চলছে। এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাঁধাই, কাটিং ও প্রাক্-সরবরাহ পরিদর্শন শেষে মোট বইয়ের ৭৬ শতাংশ সরবরাহ করা হয়েছে। বই ফেরত নেওয়া ও পুনর্মুদ্রণের কারণে অতিরিক্ত ব্যয়ের পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ নিশ্চিত করা নিয়েও চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয়েও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। পাশাপাশি চতুর্থ শ্রেণিতে ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ ও ‘আনন্দময় শিক্ষা’ নামে চারটি নতুন বই যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, পাঠ্যবইয়ে রাজনৈতিক প্রতীকের ব্যবহার শিক্ষার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তাই নকশায় এমন ভুলের কারণ অনুসন্ধানে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক।
প্রতিবেদকের নাম 




















