উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও প্রবল স্রোতের কারণে বগুড়ার ধুনট উপজেলার যমুনা নদীতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুভর্তি জিওব্যাগ ও বিশেষ টিউব ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালালেও পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ফলে নদীতীরবর্তী এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
রোববার (১২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার শহরাবাড়ি স্পারের সামনের অংশের প্রায় ৩০ মিটার এলাকা নতুন করে যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। নদীপাড়ের বাসিন্দাদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে। তাদের মতে, ভাঙন এখন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও লোকালয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবরে ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের শহরাবাড়ি এলাকায় আকস্মিক নদীভাঙনে ভূমিসহ ৯টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়। সে সময় স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশ দুর্বল হয়ে পড়ায় এবং প্রবল স্রোতের ঘূর্ণাবর্তের কারণে ভয়াবহ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছিল। পরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বালুভর্তি জিওব্যাগ ও বিশেষ টিউব ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
তবে সম্প্রতি যমুনার পানি বাড়তে শুরু করলে ১৯ জুন থেকে শহরাবাড়ি ও বানিয়াজান স্পারের মধ্যবর্তী কয়েকটি স্থানে আবারও ভাঙন শুরু হয়। প্রবল স্রোতের কারণে সৃষ্ট ঘূর্ণাবর্ত নদীতীরে আঘাত হানায় জিওব্যাগ দিয়ে সংরক্ষিত এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলেও স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় স্থানীয়দের ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের দাবি, সাময়িক ব্যবস্থা নয়, যমুনার ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।
খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অতিরিক্ত জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, ভাঙন শুরু হওয়ার পরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বালুভর্তি বিশেষ টিউব ও জিওব্যাগ ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা আপাতত কম বলে তিনি জানান।
প্রতিবেদকের নাম 




















