একসময় চীনের অন্যতম ধনী ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত গুও ওয়েনগুইকে এক বিলিয়ন ডলারের প্রতারণা মামলায় ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঘোষিত রায়ে নিউইয়র্কের বিচারক আনালিসা তোরেস বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আশায় যারা গুওকে বিশ্বাস করেছিলেন, তাদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে তিনি নিজের বিলাসবহুল জীবনযাপন চালিয়েছেন।
গুও ওয়েনগুই ২০১৭ সালে চীন ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেন। সেখানে তিনি নিজেকে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুলসংখ্যক অনুসারী গড়ে তোলেন।
তবে পরে তিনি প্রতারণা, অর্থপাচার ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে তিনি বিনিয়োগ ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রকল্পের নামে অনলাইন অনুসারীদের কাছ থেকে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেন।
প্রসিকিউটরদের দাবি, ওই অর্থ দিয়ে তিনি প্রায় ৫০ হাজার বর্গফুটের একটি প্রাসাদ, ১০ লাখ ডলারের একটি ল্যাম্বরগিনি এবং ৩ কোটি ৭০ লাখ ডলারের একটি বিলাসবহুল ইয়ট কিনেছিলেন।
মার্কিন আইনজীবী শন এস. বাকলি বলেন, গুও যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়া বৈধ সুযোগ কাজে লাগানোর পরিবর্তে হাজারো মানুষের বিশ্বাসের অপব্যবহার করেছেন। এই রায় প্রমাণ করে, খ্যাতি বা সম্পদ কাউকেই আইনের ঊর্ধ্বে নিয়ে যেতে পারে না।
অন্যদিকে, গুও ওয়েনগুই সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, সংগৃহীত অর্থ তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ব্যয় করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গুওর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মধ্যে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যাননও ছিলেন। ২০২০ সালে তারা যৌথভাবে ‘নিউ ফেডারেল স্টেট অব চায়না’ নামে একটি প্রচারণা শুরু করেন, যার লক্ষ্য ছিল চীনা কমিউনিস্ট পার্টির শাসনের অবসান ঘটানো।
প্রতিবেদকের নাম 











