২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে পরাজয়ের পাশাপাশি আরেকটি অনাকাঙ্ক্ষিত ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে আলবিসেলেস্তেরা। মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ডের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালের লাল কার্ডের তালিকায় সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় হারানো দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে আর্জেন্টিনা।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের যোগ করা মিনিটে স্পেনের ডিফেন্ডার পাউ কুবারসিকে বিপজ্জনক ট্যাকল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন এনজো। এর আগে ৮২তম মিনিটে প্রথম হলুদ কার্ড পেয়েছিলেন তিনি। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা।
সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। শেষ পর্যন্ত সেই গোলই নির্ধারণ করে বিশ্বকাপের ভাগ্য, আর রানার্সআপ হয়েই মাঠ ছাড়তে হয় লিওনেল মেসির দলকে।
ফাইনালের লাল কার্ডের ইতিহাসে আর্জেন্টিনার আধিপত্য
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ফাইনালে মাত্র ছয়জন ফুটবলার লাল কার্ড দেখেছেন। এর মধ্যে তিনজনই আর্জেন্টিনার, যা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি।
১৯৯০ সালের ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে প্রথমে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন পেদ্রো মোনজোন। একই ম্যাচে ২২ মিনিট পর লাল কার্ড দেখেন গুস্তাভো দেজোত্তি। নয়জনের দলে পরিণত হওয়া আর্জেন্টিনা সেই ম্যাচে ১-০ গোলে হেরে যায়।
৩৬ বছর পর সেই তালিকায় যুক্ত হলো এনজো ফার্নান্দেজের নাম। তার লাল কার্ডও দলের শিরোপা স্বপ্নে বড় ধাক্কা হয়ে আসে।
বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ড পাওয়া অন্য ফুটবলাররা
আর্জেন্টিনার বাইরে ফাইনালে লাল কার্ড দেখা খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন ফ্রান্সের মার্সেল দেশাইলি (১৯৯৮), ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান (২০০৬) এবং নেদারল্যান্ডসের জন হেইতিঙ্গা (২০১০)। বিশেষ করে ২০০৬ সালের ফাইনালে মার্কো মাতেরাজ্জিকে মাথা দিয়ে আঘাত করার ঘটনায় জিদানের লাল কার্ড বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ড পাওয়া ফুটবলারদের তালিকা
- পেদ্রো মোনজোন (আর্জেন্টিনা) — ১৯৯০
- গুস্তাভো দেজোত্তি (আর্জেন্টিনা) — ১৯৯০
- মার্সেল দেশাইলি (ফ্রান্স) — ১৯৯৮
- জিনেদিন জিদান (ফ্রান্স) — ২০০৬
- জন হেইতিঙ্গা (নেদারল্যান্ডস) — ২০১০
- এনজো ফার্নান্দেজ (আর্জেন্টিনা) — ২০২৬
এনজোর লাল কার্ড শুধু একটি ম্যাচের মোড়ই ঘুরিয়ে দেয়নি, বরং বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে আর্জেন্টিনার জন্য আরেকটি অনাকাঙ্ক্ষিত অধ্যায়ও যোগ করেছে।
প্রতিবেদকের নাম 






















