ঢাকা ০১:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহে টান, ফের দাম বাড়ানোর অভিযোগ

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৬:২০:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২২ সময় দেখুন

দাম বাড়েনি, অথচ বাজারে তেল মিলছে না—সয়াবিন তেল নিয়ে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে ভোক্তাদের মধ্যে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এক ও দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, মিলগেট থেকে সরবরাহ কমিয়ে বাজারে চাপ তৈরির চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে ভোক্তা অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, বাজারে সরবরাহ কমিয়ে সরকারকে মূল্যবৃদ্ধিতে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করছে বড় কোম্পানিগুলোর একটি অংশ। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে তেলের সংকট নেই এবং নতুন করে দাম বাড়ানোর কোনো প্রস্তাবও সরকারকে দেওয়া হয়নি।

বাজারে কোথায় কতটা ঘাটতি

শুক্রবার রাজধানীর নয়াবাজারে ছয়টি মুদি দোকান ঘুরে চারটিতে এক ও দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ পাওয়া যায়নি। একইভাবে জিনজিরা কাঁচাবাজারের আটটি দোকানের মধ্যে তিনটিতে এক লিটারের বোতল এবং দুটিতে দুই লিটারের তেল পাওয়া গেছে। তবে পাঁচ লিটারের বোতল তুলনামূলকভাবে পাওয়া যাচ্ছিল।

জিনজিরা কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী সাগরের দাবি, দৈনিক ২০ কার্টন এক ও দুই লিটারের সয়াবিন তেলের চাহিদা থাকলেও ডিলারদের কাছ থেকে তারা পাচ্ছেন মাত্র দুই থেকে চার কার্টন।

আরও পড়ুনঃ  ২২ অননুমোদিত অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মে লেনদেন না করার সতর্কতা

তার অভিযোগ, সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে আগের মতো বাজারে দাম বাড়ানোর পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে।

নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে খোলা তেল

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার নির্ধারিত দাম বহাল থাকলেও খোলা সয়াবিন তেল কোথাও কোথাও প্রতি লিটার ১৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নির্ধারিত দামের তুলনায় এটি ১৫ টাকা বেশি।

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, দেশের চার থেকে পাঁচটি বড় কোম্পানি সয়াবিন তেলের বাজারের প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। তার অভিযোগ, এসব কোম্পানি বিভিন্ন সময়ে ডিলারদের মাধ্যমে সরবরাহ কমিয়ে বাজারে চাপ তৈরি করে এবং পরে মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নেয়।

তার মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

এর আগে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব

বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে গত ১১ জুলাই ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ৮ থেকে ১০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।

আরও পড়ুনঃ  আন্তর্জাতিক কার্ডে বিদেশি এয়ারলাইনসের টিকিট কেনার সুযোগ আরও বাড়ল

ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১০ টাকা বাড়িয়ে ২০৯ টাকা করার কথা বলা হয়েছিল। একইভাবে পাঁচ লিটারের বোতল ১ হাজার ১৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৮ টাকা বাড়িয়ে ১৮৮ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

পরে ২ সেপ্টেম্বর এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

কোম্পানিগুলোর বক্তব্য কী

বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি ও পরিবহণ ব্যয়ও বেড়েছে। এসব কারণে বর্তমান বাজারদরের তুলনায় লিটারে ১৮ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে বলে তাদের দাবি।

আরও পড়ুনঃ  এলপিজি আমদানি কমেছে ২৫ শতাংশ, ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজারের ওপরে

অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাওরান বাজারের এক ডিলার দাবি করেছেন, কোম্পানিগুলো আবারও দাম বাড়াতে চায় বলেই ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। কোম্পানি থেকে পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় খুচরা বাজারেও সরবরাহ কমে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

‘নতুন করে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব আসেনি’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্যসংক্রান্ত টাস্কফোর্সের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজার ও পরিবহণ ব্যয় বিবেচনায় ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তবে সরকার পরিস্থিতি বিবেচনায় লিটারে ৫ টাকা দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

তার ভাষ্য, বর্তমানে ভোজ্যতেলের কোনো সংকট নেই এবং নতুন করে দাম বাড়ানোর জন্য কোম্পানিগুলো সরকারের কাছে কোনো চিঠিও দেয়নি।

তবে সরবরাহ কমিয়ে মূল্যবৃদ্ধির পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

ফলে বাজারে সরবরাহের এই টান সাময়িক নাকি এর পেছনে সত্যিই মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরির কোনো কৌশল রয়েছে—সেটিই এখন নজরে রাখার বিষয়।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ১৭১

বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহে টান, ফের দাম বাড়ানোর অভিযোগ

আপডেটের সময়: ০৬:২০:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দাম বাড়েনি, অথচ বাজারে তেল মিলছে না—সয়াবিন তেল নিয়ে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে ভোক্তাদের মধ্যে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এক ও দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, মিলগেট থেকে সরবরাহ কমিয়ে বাজারে চাপ তৈরির চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে ভোক্তা অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, বাজারে সরবরাহ কমিয়ে সরকারকে মূল্যবৃদ্ধিতে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করছে বড় কোম্পানিগুলোর একটি অংশ। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে তেলের সংকট নেই এবং নতুন করে দাম বাড়ানোর কোনো প্রস্তাবও সরকারকে দেওয়া হয়নি।

বাজারে কোথায় কতটা ঘাটতি

শুক্রবার রাজধানীর নয়াবাজারে ছয়টি মুদি দোকান ঘুরে চারটিতে এক ও দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ পাওয়া যায়নি। একইভাবে জিনজিরা কাঁচাবাজারের আটটি দোকানের মধ্যে তিনটিতে এক লিটারের বোতল এবং দুটিতে দুই লিটারের তেল পাওয়া গেছে। তবে পাঁচ লিটারের বোতল তুলনামূলকভাবে পাওয়া যাচ্ছিল।

জিনজিরা কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী সাগরের দাবি, দৈনিক ২০ কার্টন এক ও দুই লিটারের সয়াবিন তেলের চাহিদা থাকলেও ডিলারদের কাছ থেকে তারা পাচ্ছেন মাত্র দুই থেকে চার কার্টন।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশের পাটপণ্যে ভারতে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক

তার অভিযোগ, সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে আগের মতো বাজারে দাম বাড়ানোর পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে।

নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে খোলা তেল

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার নির্ধারিত দাম বহাল থাকলেও খোলা সয়াবিন তেল কোথাও কোথাও প্রতি লিটার ১৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নির্ধারিত দামের তুলনায় এটি ১৫ টাকা বেশি।

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, দেশের চার থেকে পাঁচটি বড় কোম্পানি সয়াবিন তেলের বাজারের প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। তার অভিযোগ, এসব কোম্পানি বিভিন্ন সময়ে ডিলারদের মাধ্যমে সরবরাহ কমিয়ে বাজারে চাপ তৈরি করে এবং পরে মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নেয়।

তার মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

এর আগে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব

বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে গত ১১ জুলাই ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ৮ থেকে ১০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।

আরও পড়ুনঃ  লেদার ও ফুটওয়্যার শিল্পে অগ্রাধিকার দেবে সরকার: শিল্পমন্ত্রী

ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১০ টাকা বাড়িয়ে ২০৯ টাকা করার কথা বলা হয়েছিল। একইভাবে পাঁচ লিটারের বোতল ১ হাজার ১৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৮ টাকা বাড়িয়ে ১৮৮ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

পরে ২ সেপ্টেম্বর এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

কোম্পানিগুলোর বক্তব্য কী

বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি ও পরিবহণ ব্যয়ও বেড়েছে। এসব কারণে বর্তমান বাজারদরের তুলনায় লিটারে ১৮ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে বলে তাদের দাবি।

আরও পড়ুনঃ  টানা তৃতীয়বার কমল সোনার দাম, ভরিতে কমেছে ২ হাজার ২১৬ টাকা

অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাওরান বাজারের এক ডিলার দাবি করেছেন, কোম্পানিগুলো আবারও দাম বাড়াতে চায় বলেই ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। কোম্পানি থেকে পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় খুচরা বাজারেও সরবরাহ কমে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

‘নতুন করে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব আসেনি’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্যসংক্রান্ত টাস্কফোর্সের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজার ও পরিবহণ ব্যয় বিবেচনায় ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তবে সরকার পরিস্থিতি বিবেচনায় লিটারে ৫ টাকা দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

তার ভাষ্য, বর্তমানে ভোজ্যতেলের কোনো সংকট নেই এবং নতুন করে দাম বাড়ানোর জন্য কোম্পানিগুলো সরকারের কাছে কোনো চিঠিও দেয়নি।

তবে সরবরাহ কমিয়ে মূল্যবৃদ্ধির পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

ফলে বাজারে সরবরাহের এই টান সাময়িক নাকি এর পেছনে সত্যিই মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরির কোনো কৌশল রয়েছে—সেটিই এখন নজরে রাখার বিষয়।