মাগুরা বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টারের ভেতরে গুলিতে নিহত হয়েছেন পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাকের হোসেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে এসে তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যায়।
নিহত সাকের হোসেন মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালি গ্রামের মৃত কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টার মাস্টার হিসেবে কাজ করছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সাকের প্রতিদিন ভোর ৫টার আগে কাউন্টারে যেতেন এবং দুপুর ১২টা পর্যন্ত কাজ করতেন। বুধবার ভোর ৫টার দিকে তিনি কাউন্টারে পৌঁছান। এর কিছুক্ষণ পর, সকাল সাড়ে ৫টার দিকে, তিনি গুলিবিদ্ধ হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৫টার দিকে সাকের কাউন্টারে একা বসে ছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি সেখানে আসে। মোটরসাইকেলটির সাইলেন্সার পাইপ না থাকায় বিকট শব্দ হচ্ছিল। মোটরসাইকেলের পেছনে বসা ব্যক্তি কাউন্টারের ভেতরে ঢুকে সাকেরকে গুলি করেন। এরপর দুজনই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারের মালিক বিপুল কুমার দাস জানান, মোটরসাইকেলের বিকট শব্দের কারণে আশপাশের কেউ গুলির শব্দ বুঝতে পারেননি। ঘটনার আগে ঢাকাগামী এক নারী যাত্রী কাউন্টারে এসেছিলেন। গাড়ি আসতে দেরি হওয়ায় তিনি পাশের বাথরুমে যান। ফিরে এসে সাকেরকে টেবিলে মাথা রেখে পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি স্ট্রোক করেছেন বলে ধারণা করে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
নিহতের মা গোলাম জাহিদ জানান, চিকিৎসক সাকেরকে মৃত ঘোষণা করার পর তাঁরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। প্রথমে স্ট্রোক করে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। বাড়িতে মরদেহ গোসল করানোর প্রস্তুতির সময় মাথার পেছন দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়তে দেখেন তাঁরা। পরে মাথায় বড় ক্ষত দেখতে পেয়ে মৃত্যুর বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
তবে কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কিংবা কারা এতে জড়িত, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, প্রথমে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের কারণে মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। পরে মাথায় ক্ষত দেখা গেলে মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনার পর পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করতে বিভিন্নভাবে তদন্ত চালানো হচ্ছে।
প্রতিবেদকের নাম 
























