
হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ইরানি একটি ড্রোনের হামলায় হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত হয়। এর জবাব হিসেবে মঙ্গলবার (৯ জুন) ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে শুরু হওয়া এই অভিযান ছিল ‘ইরানের অযৌক্তিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আনুপাতিক প্রতিক্রিয়া’। হামলার পর পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, ভূপাতিত হওয়া অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের দুই পাইলটকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। এ অভিযানে প্রথমবারের মতো মানববিহীন সমুদ্রযান ব্যবহার করা হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া দুই পাইলটই নিরাপদ রয়েছেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের একটি ড্রোন হামলার ফলেই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। তবে ঘটনাটি পরিকল্পিত ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অন্যদিকে, ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ জানিয়েছে, তেহরান এ ঘটনার দায় স্বীকার করেনি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ইরানের প্রতিরক্ষা ও রাডার অবকাঠামো ছিল এই হামলার প্রধান লক্ষ্য। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস, কেশম ও সিরিকসহ উপকূলীয় কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “তারা আমাদের হেলিকপ্টারের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ হামলার জবাব প্রয়োজন ছিল এবং সেটিই দেওয়া হয়েছে।” একই সঙ্গে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনও হামলার সিদ্ধান্তকে প্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “ইরান কোনো হামলা বা হুমকির জবাব না দিয়ে থাকবে না।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, নিরাপদ থাকতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত অঞ্চলটি ছেড়ে যাওয়া।
এরই মধ্যে দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও গভীর হয়েছে। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুত যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
প্রতিবেদকের নাম 




















