ঢাকা ১০:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের হরমুজ নিয়ে সমঝোতার আভাস, তবে ট্রাম্পের জন্য সুখবর নয় উগান্ডা-পাকিস্তানের পাঁচ খেলোয়াড় ‘নিখোঁজ’ কমনওয়েলথ গেমসের পর ঝিনাইদহে বাসের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত যেভাবে প্রবেশ করবেন জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে পদত্যাগের গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কিমের ‘১২০ ক্ষেপণাস্ত্র’ পুতিনের হাতে, ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের আশঙ্কা কক্সবাজারে ভারী বর্ষণে পাহাড়ধস, মেরিন ড্রাইভে যান চলাচলে বিঘ্ন শেখ হাসিনা ইস্যুতে ভারতের অবস্থান ‘দ্বিমুখী’ বলে মন্তব্য রিজভীর ফরিদপুরে রেলস্টেশন থেকে নিখোঁজ শিশু, এক বছর ধরেও সন্তানের অপেক্ষায় মা ‘শিয়ালের হাতে মুরগি তুলে দেওয়ার মতো ভুল করেছি’— রেজাউল করীম
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

হাইকোর্টের জামিনে কারামুক্ত তনু হত্যা মামলার আসামি সাবেক সেনাসদস্য

বহুল আলোচিত কলেজছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান হাইকোর্টের দেওয়া জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাইকোর্টের জামিনের আদেশ পাওয়ার পর সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে হাফিজুর রহমানকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত রোববার বিচারপতি জাকির আহমেদ ও বিচারপতি সাথীকা হোসাইন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন।

প্রায় এক দশক পর গ্রেপ্তার

দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর চলতি বছরের ২২ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জে নিজ বাসা থেকে তনু হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)

আরও পড়ুনঃ  ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নেই গড়ে উঠবে নতুন বাংলাদেশ’

পরদিন তাকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পিবিআই। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড চলাকালে তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয় এবং সেই প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

তদন্তে নতুন অগ্রগতি

মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতির অংশ হিসেবে তনুর পোশাক থেকে পাওয়া আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে আরও দুই সন্দেহভাজনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

পিবিআই সূত্র জানায়, তনুর পোশাক থেকে সংগৃহীত আলামতের বিশ্লেষণে একাধিক পুরুষের পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে। সেই প্রোফাইলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে আদালতের অনুমতি নিয়ে নতুন দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।

গত ১৬ জুলাই কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক এ সংক্রান্ত আবেদন মঞ্জুর করেন।

আরও পড়ুনঃ  শাকিবের নতুন সিনেমা: নায়িকা কে? সাবিলাকে নিয়ে গুঞ্জনে যা বললেন প্রযোজক

যাদের ডিএনএ পরীক্ষা হবে

ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি পাওয়া দুই ব্যক্তি হলেন—

  • কুমিল্লা সেনানিবাসের সাবেক সৈনিক মো. জাহিদুল ইসলাম (৪১); তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার মেঘাই গ্রামে।
  • ফয়সাল আহমেদ (রাব্বী) (৩২); তার বাড়ি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার লক্ষ্মীনগর (রাজাপাড়া) এলাকায়।

তদন্তের স্বার্থে দ্বিতীয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্দেহের নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি পিবিআই।

তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে তুলনামূলক ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। বর্তমানে তারা কোথায় অবস্থান করছেন, সেটিও নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

দুই পলাতকের বিরুদ্ধে রেড নোটিশের উদ্যোগ

এর আগে গত ৮ জুন তনু হত্যাকাণ্ডের সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সন্দেহভাজন সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান (জাহিদ) এবং সৈনিক শাহীন আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেওয়া হয়। পিবিআই জানিয়েছে, দুজনই বর্তমানে পলাতক।

আরও পড়ুনঃ  পরিবেশ সংরক্ষণে নাগরিকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

তনু হত্যা মামলা

২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। পরদিন সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি প্রথমে থানা-পুলিশ, পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং সিআইডি তদন্ত করলেও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটিত হয়নি। ২০১৭ সালে সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাক থেকে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর উপস্থিতি শনাক্ত হলেও তা সন্দেহভাজনদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি।

পরে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলাটি সিআইডি থেকে পিবিআই সদর দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে মামলার তদন্ত করছে পিবিআই।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের হরমুজ নিয়ে সমঝোতার আভাস, তবে ট্রাম্পের জন্য সুখবর নয়

হাইকোর্টের জামিনে কারামুক্ত তনু হত্যা মামলার আসামি সাবেক সেনাসদস্য

আপডেটের সময়: ০৬:৩৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

বহুল আলোচিত কলেজছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান হাইকোর্টের দেওয়া জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাইকোর্টের জামিনের আদেশ পাওয়ার পর সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে হাফিজুর রহমানকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত রোববার বিচারপতি জাকির আহমেদ ও বিচারপতি সাথীকা হোসাইন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন।

প্রায় এক দশক পর গ্রেপ্তার

দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর চলতি বছরের ২২ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জে নিজ বাসা থেকে তনু হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)

আরও পড়ুনঃ  পরিবেশ সংরক্ষণে নাগরিকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

পরদিন তাকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পিবিআই। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড চলাকালে তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয় এবং সেই প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

তদন্তে নতুন অগ্রগতি

মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতির অংশ হিসেবে তনুর পোশাক থেকে পাওয়া আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে আরও দুই সন্দেহভাজনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

পিবিআই সূত্র জানায়, তনুর পোশাক থেকে সংগৃহীত আলামতের বিশ্লেষণে একাধিক পুরুষের পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে। সেই প্রোফাইলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে আদালতের অনুমতি নিয়ে নতুন দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।

গত ১৬ জুলাই কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক এ সংক্রান্ত আবেদন মঞ্জুর করেন।

আরও পড়ুনঃ  ভারতের টেস্ট দলে কাশ্মিরি পেসার আকিব নবি

যাদের ডিএনএ পরীক্ষা হবে

ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি পাওয়া দুই ব্যক্তি হলেন—

  • কুমিল্লা সেনানিবাসের সাবেক সৈনিক মো. জাহিদুল ইসলাম (৪১); তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার মেঘাই গ্রামে।
  • ফয়সাল আহমেদ (রাব্বী) (৩২); তার বাড়ি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার লক্ষ্মীনগর (রাজাপাড়া) এলাকায়।

তদন্তের স্বার্থে দ্বিতীয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্দেহের নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি পিবিআই।

তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে তুলনামূলক ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। বর্তমানে তারা কোথায় অবস্থান করছেন, সেটিও নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

দুই পলাতকের বিরুদ্ধে রেড নোটিশের উদ্যোগ

এর আগে গত ৮ জুন তনু হত্যাকাণ্ডের সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সন্দেহভাজন সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান (জাহিদ) এবং সৈনিক শাহীন আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেওয়া হয়। পিবিআই জানিয়েছে, দুজনই বর্তমানে পলাতক।

আরও পড়ুনঃ  ‘শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছে বিরোধী দল’

তনু হত্যা মামলা

২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। পরদিন সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি প্রথমে থানা-পুলিশ, পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং সিআইডি তদন্ত করলেও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটিত হয়নি। ২০১৭ সালে সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাক থেকে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর উপস্থিতি শনাক্ত হলেও তা সন্দেহভাজনদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি।

পরে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলাটি সিআইডি থেকে পিবিআই সদর দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে মামলার তদন্ত করছে পিবিআই।