লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য এক জয় তুলে নিয়েছে পাকিস্তান। ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে একসময় ১৫৪ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে ছিল স্বাগতিকরা। সেখান থেকে শাদাব খানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও হারিস রউফের সঙ্গে রেকর্ড গড়া জুটিতে এক উইকেটে জয় পেয়েছে পাকিস্তান।
ইংল্যান্ডের দেওয়া ২৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪৭.১ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৪৩ রান করে পাকিস্তান। এই জয়ের পথে ওয়ানডে ক্রিকেটে সফল রান তাড়ায় দশম উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটির বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন শাদাব ও হারিস।
শাদাবের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি
ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যে একাই লড়াই চালিয়ে যান শাদাব খান। আট নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ৯৬ বলে অপরাজিত ১১৩ রান করেন তিনি। ইনিংসটি সাজান ১৩টি চার ও পাঁচটি ছক্কায়। এটি ছিল তাঁর প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। আট বা তার নিচের ব্যাটিং পজিশনে নেমে ওয়ানডেতে এটিই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।
শাদাবের সঙ্গে শেষ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৮৯ রানের জুটি গড়েন হারিস রউফ। তিনি ১৯ বলে অপরাজিত ৭ রান করেন। হারিসের ব্যাট থেকে আসা জয়সূচক বাউন্ডারিতেই নিশ্চিত হয় পাকিস্তানের অবিশ্বাস্য জয়।
এর আগে সফল রান তাড়ায় ওয়ানডেতে দশম উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ডটি ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডেরিক মারে ও অ্যান্ডি রবার্টসের দখলে। ১৯৭৫ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে তাঁরা ৬৪ রানের জুটি গড়েছিলেন। ৫১ বছর পর সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন শাদাব ও হারিস।
রিভিউয়ে বেঁচে গিয়ে বদলে দিলেন ম্যাচ
পাকিস্তানের জয়ের পথে নাটকীয় মুহূর্ত তৈরি হয় ৪৫তম ওভারে। তখন শাদাবের সংগ্রহ ৯৭ রান এবং জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২১ রান। ইংল্যান্ডের পেসার গাস অ্যাটকিনসনের বলে এলবিডব্লিউর আবেদনে আম্পায়ার তাঁকে আউট ঘোষণা করেন।
ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা জয় উদ্যাপন শুরু করেন। শাদাবও প্রথমে সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে প্যাভিলিয়নের দিকে হাঁটতে থাকেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত বদলে দেয় ম্যাচের চিত্র।
রিভিউতে দেখা যায়, বল প্যাডে লাগার আগে ব্যাটের কানায় স্পর্শ করেছিল। ফলে আউটের সিদ্ধান্ত বাতিল হয় এবং নতুন করে লড়াইয়ে ফেরেন শাদাব। এরপর দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে নিজের সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পাশাপাশি দলকেও জয়ের কাছে নিয়ে যান তিনি।
শেষ পর্যন্ত হারিস রউফের বাউন্ডারিতে জয় নিশ্চিত হলে পাকিস্তান শিবিরে শুরু হয় উদ্যাপন। একসময় নিশ্চিত পরাজয়ের মুখে থাকা দলটি শুধু ম্যাচই জেতেনি, ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসেও নিজেদের নাম লিখিয়েছে নতুন রেকর্ডের মাধ্যমে।
প্রতিবেদকের নাম 
























