ঢাকা ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে বন্যার শঙ্কায় ১৪ জেলা

 

টানা ভারি বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে আগামী কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের অন্তত ১৪ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যা ও প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সোমবার সকাল ৯টার তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদ-নদী বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগামী পাঁচ দিনে সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং সংলগ্ন ভারতের ত্রিপুরা ও মেঘালয় এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।

আরও পড়ুনঃ  আমার দেখা সবচেয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের ফসল এবারের সংসদ: অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি আগামী তিন দিনে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসব নদীর পানি বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে এসব জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর কিছু নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

এদিকে সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের মনু, ধলাই, খোয়াই, কংস, সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী ও যাদুকাটা অববাহিকার নদীগুলোর পানিও আগামী কয়েক দিনে দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কয়েকটি স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  জুলাইয়ের কৃতিত্ব জনগণের, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়: তথ্যমন্ত্রী

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি স্থিতিশীল থাকলেও যমুনার পানি কিছুটা বেড়েছে। আগামী দুই দিন পানি কমে গেলেও পরবর্তী তিন দিনে আবার বাড়তে পারে। তবে নদীটি বিপৎসীমার নিচেই থাকবে। একই সময়ে গঙ্গা-পদ্মার পানিও স্থিতিশীল থাকার পর পরবর্তী দুই দিনে কিছুটা বাড়তে পারে, তবে আপাতত এসব নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা নেই।

রংপুর অঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। আগামী এক দিন এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর আবার এসব নদীর পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বোনের বিয়ের বাজার শেষে নিথর দেহে ফিরলেন ভাই

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারে। এছাড়া বান্দরবানের লামায় ২০৬ মিলিমিটার, কক্সবাজারের টেকনাফে ১৬২ মিলিমিটার এবং চট্টগ্রামে ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয়ের আর কে এম সোহরা, মাওসিনরাম, চেরাপুঞ্জি ও মাওফ্ল্যাংয়েও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের কোনো নদীই বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল না। তবে পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। সংস্থাটি নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে বন্যার শঙ্কায় ১৪ জেলা

আপডেটের সময়: ০৮:১৬:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

 

টানা ভারি বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে আগামী কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের অন্তত ১৪ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যা ও প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সোমবার সকাল ৯টার তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদ-নদী বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগামী পাঁচ দিনে সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং সংলগ্ন ভারতের ত্রিপুরা ও মেঘালয় এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশ আর কখনোই তাবেদারী রাষ্ট্রে পরিণত হবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি আগামী তিন দিনে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসব নদীর পানি বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে এসব জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর কিছু নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

এদিকে সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের মনু, ধলাই, খোয়াই, কংস, সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী ও যাদুকাটা অববাহিকার নদীগুলোর পানিও আগামী কয়েক দিনে দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কয়েকটি স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  আবারও বাড়ল সোনা-রুপার দাম, আজ থেকেই কার্যকর নতুন মূল্য

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি স্থিতিশীল থাকলেও যমুনার পানি কিছুটা বেড়েছে। আগামী দুই দিন পানি কমে গেলেও পরবর্তী তিন দিনে আবার বাড়তে পারে। তবে নদীটি বিপৎসীমার নিচেই থাকবে। একই সময়ে গঙ্গা-পদ্মার পানিও স্থিতিশীল থাকার পর পরবর্তী দুই দিনে কিছুটা বাড়তে পারে, তবে আপাতত এসব নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা নেই।

রংপুর অঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। আগামী এক দিন এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর আবার এসব নদীর পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ১৭ বছর পরও চাকরি স্থায়ীকরণের অনিশ্চয়তা, ব্রেন স্ট্রোকে নির্বাচন অফিসকর্মীর মৃত্যু

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারে। এছাড়া বান্দরবানের লামায় ২০৬ মিলিমিটার, কক্সবাজারের টেকনাফে ১৬২ মিলিমিটার এবং চট্টগ্রামে ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয়ের আর কে এম সোহরা, মাওসিনরাম, চেরাপুঞ্জি ও মাওফ্ল্যাংয়েও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের কোনো নদীই বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল না। তবে পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। সংস্থাটি নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।