ঢাকা ০১:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
জামায়াতকে নিষিদ্ধের তিন দিনের মাথায় সরকার পালাতে বাধ্য হয়েছিল: ডা. শফিকুর রহমান পাকিস্তানে কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ৩২ বাঁশখালীতে মৎস্যঘের দখল নিয়ে গোলাগুলি, নিহত ১ শিক্ষার্থীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, কুয়াকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী সাময়িক বরখাস্ত রাজধানীর পাশে কেরানীগঞ্জে ইয়াবা তৈরির কারখানায় র‌্যাবের অভিযান, আটক ৪ ফিফার নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে বাংলাদেশের গ্রুপেই খেলবে নেপাল ধান রোপণের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষি শ্রমিকের মৃত্যু জুলাইয়ের অর্জন ১৮ কোটি মানুষের, কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়: জামায়াত আমির পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে কয়লা খনিতে বিস্ফোরণ, নিহত ৩৪ শ্রমিক ১২ বছরের সেই শিশুর গর্ভে জন্ম নেওয়া নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

দক্ষিণ লেবাননে ধ্বংসস্তূপের নগরী, ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ৯০ হাজারের বেশি বাড়িঘর

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৯:৩০:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • ২৫ সময় দেখুন

 

দক্ষিণ লেবাননে টানা সামরিক অভিযানের ফলে হাজার হাজার পরিবার এখনো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। লেবানন সরকারের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় এ অঞ্চলের ৯০ হাজারের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ৬ লাখেরও বেশি মানুষ এখনও নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারেননি।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আল জাজিরা প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, কয়েক মাস ধরে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন গ্রামে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসছে ইসরায়েলি বাহিনী। বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর ও পুরো আবাসিক এলাকা ধ্বংসের ভিডিওও প্রকাশ করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, এসব হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী।

আরও পড়ুনঃ  হাইকোর্টে খারিজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন বাতিলের রিট

আল জাজিরার লেবানন প্রতিনিধি জেইনা খোদর জানান, দক্ষিণাঞ্চলের তিবনিন শহরে অবস্থান করেও নিজ গ্রাম হাদাথায় ফিরতে পারছেন না বাসিন্দা হুসেইন সাবরা। মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে থাকা নিজের বাড়ির দিক থেকে প্রতিনিয়ত বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে হয় তাকে।

সাবরা বলেন, “নিজের বাড়ি, জীবিকা আর শৈশবের স্মৃতিগুলো ধ্বংস হতে দেখা কোনো মানুষের পক্ষেই মেনে নেওয়া সহজ নয়।”

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতে বিধ্বস্ত এলাকাগুলোর পুনর্গঠনে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি ব্যয় হতে পারে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ পরিবারের পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা প্রায় অসম্ভব।

আরও পড়ুনঃ  প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করল হাসিমাখা সেই তাহসিন

তিবনিনের বাসিন্দা আহমেদ হামজা জানান, অনেক পরিবার পুরো বাড়ি পুনর্নির্মাণের সামর্থ্য না থাকায় শুধু বসবাসের উপযোগী করার মতো সামান্য সংস্কার করছে। তবে নতুন করে হামলা শুরু হওয়ার আশঙ্কায় তাদের জীবনজুড়ে এখন আতঙ্ক।

তার ভাষায়, “মানুষ শুধু মাথা গোঁজার মতো করে ঘর মেরামত করছে। কিন্তু কারও মনেই নিরাপত্তার অনুভূতি নেই। সবাই আশঙ্কা করছে, আবারও হামলা শুরু হতে পারে।”

আরও পড়ুনঃ  ডিম খেতে ভালোবাসেন? জেনে নিন প্রতিদিন কতটি ডিম খাওয়া নিরাপদ

যারা ইতোমধ্যে নিজ বাড়িতে ফিরেছেন, তাদের জীবনও স্বাভাবিক হয়নি। স্থানীয়দের মতে, বিস্ফোরণের শব্দ, নিরাপত্তাহীনতা এবং অনিশ্চয়তা এখন তাদের নিত্যসঙ্গী।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু হুসেইন বলেন, “প্রতিটি বিস্ফোরণের শব্দে শিশুরা ভয়ে কেঁপে ওঠে। পুরো বাড়ি কেঁপে ওঠে, আর আমাদের আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের সংঘাতে শুধু ঘরবাড়ি নয়, কৃষিজমি, জীবিকা ও সামাজিক অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে যুদ্ধ থেমে গেলেও দক্ষিণ লেবাননের মানুষের সামনে পুনর্বাসন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার পথ এখনও দীর্ঘ ও কঠিন।

সূত্র: আল জাজিরা

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জামায়াতকে নিষিদ্ধের তিন দিনের মাথায় সরকার পালাতে বাধ্য হয়েছিল: ডা. শফিকুর রহমান

দক্ষিণ লেবাননে ধ্বংসস্তূপের নগরী, ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ৯০ হাজারের বেশি বাড়িঘর

আপডেটের সময়: ০৯:৩০:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

 

দক্ষিণ লেবাননে টানা সামরিক অভিযানের ফলে হাজার হাজার পরিবার এখনো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। লেবানন সরকারের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় এ অঞ্চলের ৯০ হাজারের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ৬ লাখেরও বেশি মানুষ এখনও নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারেননি।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আল জাজিরা প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, কয়েক মাস ধরে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন গ্রামে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসছে ইসরায়েলি বাহিনী। বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর ও পুরো আবাসিক এলাকা ধ্বংসের ভিডিওও প্রকাশ করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, এসব হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী।

আরও পড়ুনঃ  হাইকোর্টে খারিজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন বাতিলের রিট

আল জাজিরার লেবানন প্রতিনিধি জেইনা খোদর জানান, দক্ষিণাঞ্চলের তিবনিন শহরে অবস্থান করেও নিজ গ্রাম হাদাথায় ফিরতে পারছেন না বাসিন্দা হুসেইন সাবরা। মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে থাকা নিজের বাড়ির দিক থেকে প্রতিনিয়ত বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে হয় তাকে।

সাবরা বলেন, “নিজের বাড়ি, জীবিকা আর শৈশবের স্মৃতিগুলো ধ্বংস হতে দেখা কোনো মানুষের পক্ষেই মেনে নেওয়া সহজ নয়।”

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতে বিধ্বস্ত এলাকাগুলোর পুনর্গঠনে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি ব্যয় হতে পারে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ পরিবারের পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা প্রায় অসম্ভব।

আরও পড়ুনঃ  ডিম খেতে ভালোবাসেন? জেনে নিন প্রতিদিন কতটি ডিম খাওয়া নিরাপদ

তিবনিনের বাসিন্দা আহমেদ হামজা জানান, অনেক পরিবার পুরো বাড়ি পুনর্নির্মাণের সামর্থ্য না থাকায় শুধু বসবাসের উপযোগী করার মতো সামান্য সংস্কার করছে। তবে নতুন করে হামলা শুরু হওয়ার আশঙ্কায় তাদের জীবনজুড়ে এখন আতঙ্ক।

তার ভাষায়, “মানুষ শুধু মাথা গোঁজার মতো করে ঘর মেরামত করছে। কিন্তু কারও মনেই নিরাপত্তার অনুভূতি নেই। সবাই আশঙ্কা করছে, আবারও হামলা শুরু হতে পারে।”

আরও পড়ুনঃ  টানা তৃতীয় দিন থেমে আছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত, কূটনৈতিক সমাধানের নতুন আশা

যারা ইতোমধ্যে নিজ বাড়িতে ফিরেছেন, তাদের জীবনও স্বাভাবিক হয়নি। স্থানীয়দের মতে, বিস্ফোরণের শব্দ, নিরাপত্তাহীনতা এবং অনিশ্চয়তা এখন তাদের নিত্যসঙ্গী।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু হুসেইন বলেন, “প্রতিটি বিস্ফোরণের শব্দে শিশুরা ভয়ে কেঁপে ওঠে। পুরো বাড়ি কেঁপে ওঠে, আর আমাদের আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের সংঘাতে শুধু ঘরবাড়ি নয়, কৃষিজমি, জীবিকা ও সামাজিক অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে যুদ্ধ থেমে গেলেও দক্ষিণ লেবাননের মানুষের সামনে পুনর্বাসন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার পথ এখনও দীর্ঘ ও কঠিন।

সূত্র: আল জাজিরা