ঢাকা ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

ফ্লাইটের পর পরই মাদক পরীক্ষায় দুই পাইলটের ‘নন-নেগেটিভ’ ফল

ভারতে এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলটদের মাদক পরীক্ষায় আরও দুইজনের প্রাথমিক ফল ‘নন-নেগেটিভ’ এসেছে। চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল না আসা পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট পরিচালনা থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে।

ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনার পর সংস্থাটির পাইলটদের মাদক পরীক্ষা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন করে দুই পাইলটের নমুনায় প্রাথমিকভাবে ‘নন-নেগেটিভ’ ফল পাওয়া গেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দুই পাইলটের নমুনা এখন নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় ‘নন-নেগেটিভ’ ফল পাওয়া মানেই মাদক গ্রহণ প্রমাণিত হওয়া নয়। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই তাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এয়ার ইন্ডিয়া সম্প্রতি তাদের পাইলটদের জন্য এককালীন বাধ্যতামূলক মাদক পরীক্ষা শুরু করেছে। এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের প্রায় ৫ হাজার পাইলটকে এই পরীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে। এরই মধ্যে ৩০০-এর বেশি পাইলটের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পিছু না হটার ঘোষণা ইরানের

৩০০ ফুট নিচে নেমে গিয়েছিল উড়োজাহাজ

গত ৪ আগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার এআই২৩৭৯ ফ্লাইটে গুরুতর ঘটনা ঘটে। এয়ারবাস এ৩২০নিও উড়োজাহাজটি মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে ২৪ জন আহত হন। পরে উড়োজাহাজটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করে।

ঘটনার পর ফ্লাইটটির পাইলটদের মাদক পরীক্ষা করা হয়। ফ্লাইটের ক্যাপ্টেনের প্রাথমিক পরীক্ষায় সন্দেহজনক ফল আসার পর তার নমুনা নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরে তার শরীরে গাঁজার উপাদান শনাক্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  অপেক্ষায় পূজা চেরি

তবে শরীরে গাঁজার উপাদান পাওয়া এবং ফ্লাইট পরিচালনার সময় পাইলট মাদকের প্রভাবে ছিলেন—দুটি বিষয় এক নয়। তদন্তে তাই পাইলটদের আচরণ ও মাদক পরীক্ষার ফলের পাশাপাশি ফ্লাইট ডেটা, উড়োজাহাজের কারিগরি অবস্থা এবং ককপিটের পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিন হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় একসঙ্গে সমস্যা

ঘটনার তদন্তে উড়োজাহাজটির কারিগরি ত্রুটির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এয়ারবাসের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উড়োজাহাজটির তিনটি স্বতন্ত্র হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় একই সময়ে সাময়িকভাবে চাপ কমে যায়।

এর ফলে প্রায় চার সেকেন্ডের জন্য এলিভেটর ও আইলারনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট কন্ট্রোল স্বাভাবিকভাবে সাড়া দেয়নি। পরে হাইড্রোলিক চাপ ফিরে এলে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও আবার কার্যকর হয়।

তাই ঘটনাটিকে শুধু পাইলটের মাদক পরীক্ষার ফলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হচ্ছে না। একই সময়ে তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় কেন সমস্যা দেখা দিয়েছিল, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আরও পড়ুনঃ  স্বাভাবিক হচ্ছে এলএনজি সরবরাহ, বাড়ছে গ্যাসের চাপ

ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো ঘটনাটিকে ‘গুরুতর ঘটনা’ হিসেবে তদন্ত করছে। এয়ারবাস ও ফ্রান্সের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থার বিশেষজ্ঞরাও কারিগরি তদন্তে সহায়তা করছেন।

এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পাইলটদের মাদক পরীক্ষা নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রক্রিয়া ও বেসামরিক বিমান চলাচলের বিধি অনুযায়ী করা হচ্ছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় ‘নন-নেগেটিভ’ ফল পাওয়া পাইলটদের নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার ফল না আসা পর্যন্ত ফ্লাইট ডিউটি থেকে সরিয়ে রাখা হচ্ছে।

ফলে ফুকেট-দিল্লি ফ্লাইটের ঘটনায় এখন দুটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে—পাইলটদের মাদক পরীক্ষার ফল ও ফিটনেস এবং উড়োজাহাজের তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় একসঙ্গে দেখা দেওয়া কারিগরি ত্রুটি। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হলে ৩০০ ফুট আকস্মিক নিচে নেমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ফ্লাইটের পর পরই মাদক পরীক্ষায় দুই পাইলটের ‘নন-নেগেটিভ’ ফল

আপডেটের সময়: ০৭:৪৪:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

ভারতে এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলটদের মাদক পরীক্ষায় আরও দুইজনের প্রাথমিক ফল ‘নন-নেগেটিভ’ এসেছে। চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল না আসা পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট পরিচালনা থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে।

ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনার পর সংস্থাটির পাইলটদের মাদক পরীক্ষা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন করে দুই পাইলটের নমুনায় প্রাথমিকভাবে ‘নন-নেগেটিভ’ ফল পাওয়া গেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দুই পাইলটের নমুনা এখন নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় ‘নন-নেগেটিভ’ ফল পাওয়া মানেই মাদক গ্রহণ প্রমাণিত হওয়া নয়। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই তাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এয়ার ইন্ডিয়া সম্প্রতি তাদের পাইলটদের জন্য এককালীন বাধ্যতামূলক মাদক পরীক্ষা শুরু করেছে। এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের প্রায় ৫ হাজার পাইলটকে এই পরীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে। এরই মধ্যে ৩০০-এর বেশি পাইলটের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  আরও এক বছর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি

৩০০ ফুট নিচে নেমে গিয়েছিল উড়োজাহাজ

গত ৪ আগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার এআই২৩৭৯ ফ্লাইটে গুরুতর ঘটনা ঘটে। এয়ারবাস এ৩২০নিও উড়োজাহাজটি মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে ২৪ জন আহত হন। পরে উড়োজাহাজটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করে।

ঘটনার পর ফ্লাইটটির পাইলটদের মাদক পরীক্ষা করা হয়। ফ্লাইটের ক্যাপ্টেনের প্রাথমিক পরীক্ষায় সন্দেহজনক ফল আসার পর তার নমুনা নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরে তার শরীরে গাঁজার উপাদান শনাক্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  অপেক্ষায় পূজা চেরি

তবে শরীরে গাঁজার উপাদান পাওয়া এবং ফ্লাইট পরিচালনার সময় পাইলট মাদকের প্রভাবে ছিলেন—দুটি বিষয় এক নয়। তদন্তে তাই পাইলটদের আচরণ ও মাদক পরীক্ষার ফলের পাশাপাশি ফ্লাইট ডেটা, উড়োজাহাজের কারিগরি অবস্থা এবং ককপিটের পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিন হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় একসঙ্গে সমস্যা

ঘটনার তদন্তে উড়োজাহাজটির কারিগরি ত্রুটির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এয়ারবাসের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উড়োজাহাজটির তিনটি স্বতন্ত্র হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় একই সময়ে সাময়িকভাবে চাপ কমে যায়।

এর ফলে প্রায় চার সেকেন্ডের জন্য এলিভেটর ও আইলারনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট কন্ট্রোল স্বাভাবিকভাবে সাড়া দেয়নি। পরে হাইড্রোলিক চাপ ফিরে এলে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও আবার কার্যকর হয়।

তাই ঘটনাটিকে শুধু পাইলটের মাদক পরীক্ষার ফলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হচ্ছে না। একই সময়ে তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় কেন সমস্যা দেখা দিয়েছিল, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আরও পড়ুনঃ  ৬ মাস ধরে বুকসমান কাদায় বেঁধে রাখা হতো মহিষগুলো, অবশেষে উদ্ধার

ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো ঘটনাটিকে ‘গুরুতর ঘটনা’ হিসেবে তদন্ত করছে। এয়ারবাস ও ফ্রান্সের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থার বিশেষজ্ঞরাও কারিগরি তদন্তে সহায়তা করছেন।

এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পাইলটদের মাদক পরীক্ষা নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রক্রিয়া ও বেসামরিক বিমান চলাচলের বিধি অনুযায়ী করা হচ্ছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় ‘নন-নেগেটিভ’ ফল পাওয়া পাইলটদের নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার ফল না আসা পর্যন্ত ফ্লাইট ডিউটি থেকে সরিয়ে রাখা হচ্ছে।

ফলে ফুকেট-দিল্লি ফ্লাইটের ঘটনায় এখন দুটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে—পাইলটদের মাদক পরীক্ষার ফল ও ফিটনেস এবং উড়োজাহাজের তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় একসঙ্গে দেখা দেওয়া কারিগরি ত্রুটি। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হলে ৩০০ ফুট আকস্মিক নিচে নেমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে।