বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার প্রভাবে দেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বেড়েছে। এপ্রিল মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বুধবার (৬ মে) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। এর আগে মার্চে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে এই মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হয়েছে। জ্বালানি খরচ বাড়ায় পরিবহন, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বেড়ে গিয়ে নিত্যপণ্যের দামে প্রভাব পড়ছে।
সরকার ১৯ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এতে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রলের দাম এক লাফে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, যার প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়ে।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশে পৌঁছেছে। শহর ও গ্রাম উভয় এলাকাতেই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের উপরে অবস্থান করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আয়ের তুলনায় ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোকে খাদ্য, বাসস্থান ও যাতায়াত খাতে ব্যয় কমাতে হচ্ছে।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংকট—বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন—এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বলছে, এই পরিস্থিতিতে পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও খাদ্য উৎপাদনের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, যা দারিদ্র্যের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, কয়েক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যেতে পারে, যার বড় একটি অংশ এশিয়া অঞ্চলে।
এছাড়া খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) সতর্ক করেছে, জ্বালানি, গ্যাস ও সার সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে খাদ্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)ও জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি চলমান থাকলে আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধি কমে যাবে এবং মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না এলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়বে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
প্রতিবেদকের নাম 




















