ঢাকা ০৫:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দিল্লির সীমান্ত সম্মেলনে হত্যা ও পুশইন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান বিজিবির ঢাকার যানজট কমাতে বড় সিদ্ধান্ত, সরছে সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গুলিস্তান বাস টার্মিনাল সরকারি বই পাচারের অভিযোগ, পিকআপ জব্দ; পলাতক মাদ্রাসা সুপার ফ্যামিলি কার্ডের ভাতা কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, প্রভাব মূল্যায়ন করবে সরকার অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন বুন্দেসলিগা অভিজ্ঞতায় ভর করে বিশ্বকাপ মিশন শুরু জাপান–নেদারল্যান্ডসের স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ, বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন, আইন ও অর্থে সভাপতি পার্থ ও মুশফিকুর দিল্লি বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইল জামায়াত
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

রাঙ্গামাটির পাহাড়ধসের ৯ বছর: ১২০ প্রাণের পরও ঝুঁকিপূর্ণ বসতি অপরিবর্তিত

 

রাঙ্গামাটিতে ভয়াবহ পাহাড়ধসের নয় বছর পূর্ণ হলো শনিবার (১৩ জুন)। ২০১৭ সালের এই দিনে টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে সেনাসদস্যসহ প্রায় ১২০ জনের মৃত্যু হয়। এত বড় বিপর্যয়ের বছর পার হলেও এখনো পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি; বরং কিছু এলাকায় তা বেড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ওই বিপর্যয়ে রাঙ্গামাটি সদরে ৬৬ জন, কাউখালীতে ২১ জন, কাপ্তাইয়ে ১৮ জন, জুরাছড়িতে ৬ জন এবং বিলাইছড়িতে ২ জনসহ মোট ১১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে ছিলেন নারী, পুরুষ ও শিশুও। এছাড়া পৃথক ঘটনায় সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্যও নিহত হন।

আরও পড়ুনঃ  বাঙালি পরিচয়ে সীমান্তের ওপারের কারও সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই: তথ্যমন্ত্রী

ওই সময় পাহাড়ধসে রাঙ্গামাটি–চট্টগ্রাম সড়কসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়। পরে সেনাবাহিনী ও সড়ক বিভাগের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৭ সালের ওই ধস ছিল রাঙ্গামাটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটি। সেই ঘটনার প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  মাদকাসক্ত পিতার নির্যাতনে প্রাণ গেল দুই মাসের শিশু জুনায়েদের

পরবর্তী বছরগুলোতেও পাহাড়ধস থামেনি। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে পৃথক ঘটনায় আবারও প্রাণহানির খবর আসে।

জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, জেলায় এখনো প্রায় শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা রয়েছে এবং ২০ হাজারের বেশি মানুষ পাহাড়ের ঢালে বসবাস করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বিকল্প বাসস্থানের অভাবে বাধ্য হয়েই তারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকছেন। বর্ষা এলে আতঙ্ক বাড়ে, কিন্তু স্থায়ী পুনর্বাসনের উদ্যোগ না থাকায় পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থেকে যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১-০ গোলে হার, এক ম্যাচে ব্রাজিলের ৮ জনকে রেড কার্ড

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাঙ্গামাটি শাখার প্রতিনিধিরা মনে করেন, শুধু মৌসুমি সতর্কতা নয়, পাহাড়ে অবৈধ বসতি স্থাপন বন্ধে কঠোর ও স্থায়ী পদক্ষেপ প্রয়োজন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। তবে ভূমি ব্যবস্থাপনার জটিলতার কারণে এ কাজ সময়সাপেক্ষ বলে তারা উল্লেখ করেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পাহাড়ের ঢালে বসতি নির্মাণে কঠোর নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করা না গেলে ভবিষ্যতেও পাহাড়ধসের ঝুঁকি থেকে যাবে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

দিল্লির সীমান্ত সম্মেলনে হত্যা ও পুশইন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান বিজিবির

রাঙ্গামাটির পাহাড়ধসের ৯ বছর: ১২০ প্রাণের পরও ঝুঁকিপূর্ণ বসতি অপরিবর্তিত

আপডেটের সময়: ০২:০৯:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

 

রাঙ্গামাটিতে ভয়াবহ পাহাড়ধসের নয় বছর পূর্ণ হলো শনিবার (১৩ জুন)। ২০১৭ সালের এই দিনে টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে সেনাসদস্যসহ প্রায় ১২০ জনের মৃত্যু হয়। এত বড় বিপর্যয়ের বছর পার হলেও এখনো পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি; বরং কিছু এলাকায় তা বেড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ওই বিপর্যয়ে রাঙ্গামাটি সদরে ৬৬ জন, কাউখালীতে ২১ জন, কাপ্তাইয়ে ১৮ জন, জুরাছড়িতে ৬ জন এবং বিলাইছড়িতে ২ জনসহ মোট ১১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে ছিলেন নারী, পুরুষ ও শিশুও। এছাড়া পৃথক ঘটনায় সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্যও নিহত হন।

আরও পড়ুনঃ  বিলাসপুরে কলাবাগানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, বোমা তৈরির আলামত উদ্ধার

ওই সময় পাহাড়ধসে রাঙ্গামাটি–চট্টগ্রাম সড়কসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়। পরে সেনাবাহিনী ও সড়ক বিভাগের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৭ সালের ওই ধস ছিল রাঙ্গামাটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটি। সেই ঘটনার প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  লাল কার্ডের ঝড়ে উত্তপ্ত ম্যাচ, ব্রাজিল নারী দলের ৮ লাল কার্ডের ঘটনা

পরবর্তী বছরগুলোতেও পাহাড়ধস থামেনি। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে পৃথক ঘটনায় আবারও প্রাণহানির খবর আসে।

জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, জেলায় এখনো প্রায় শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা রয়েছে এবং ২০ হাজারের বেশি মানুষ পাহাড়ের ঢালে বসবাস করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বিকল্প বাসস্থানের অভাবে বাধ্য হয়েই তারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকছেন। বর্ষা এলে আতঙ্ক বাড়ে, কিন্তু স্থায়ী পুনর্বাসনের উদ্যোগ না থাকায় পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থেকে যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  বড় পতন এড়াল পুঁজিবাজার, সিএসইতে সূচক হ্রাস

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাঙ্গামাটি শাখার প্রতিনিধিরা মনে করেন, শুধু মৌসুমি সতর্কতা নয়, পাহাড়ে অবৈধ বসতি স্থাপন বন্ধে কঠোর ও স্থায়ী পদক্ষেপ প্রয়োজন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। তবে ভূমি ব্যবস্থাপনার জটিলতার কারণে এ কাজ সময়সাপেক্ষ বলে তারা উল্লেখ করেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পাহাড়ের ঢালে বসতি নির্মাণে কঠোর নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করা না গেলে ভবিষ্যতেও পাহাড়ধসের ঝুঁকি থেকে যাবে।