ঢাকা ০৬:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
খারগ দ্বীপে আবারও ট্যাংকারে অপরিশোধিত তেল তুলছে ইরান ইমাম-মুয়াজ্জিন-সেবায়েতদের সম্মানি বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী কিস্তির টাকা নিয়ে বিরোধ, শ্রীপুরে সিএনজি চালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে রিজভী হরমুজ ঘিরে নতুন কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের, ইরানের ওপর বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ পশ্চিম তীরে সেটেলার সহিংসতা বাড়ছে, ইসরায়েলি রাষ্ট্রের মদদের অভিযোগ অ্যামনেস্টির আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ২২ ক্যারেটের ভরি এখন ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা গ্যাসের দাবিতে কদমতলীতে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ সিএনজি চালকদের কুয়েতে দুই বাসের মাঝে চাপা পড়ে বাংলাদেশি চালকের মৃত্যু খালেদা জিয়ার জন্মদিনে দেশজুড়ে বিএনপির দোয়া ও মিলাদ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

রাঙ্গামাটির পাহাড়ধসের ৯ বছর: ১২০ প্রাণের পরও ঝুঁকিপূর্ণ বসতি অপরিবর্তিত

 

রাঙ্গামাটিতে ভয়াবহ পাহাড়ধসের নয় বছর পূর্ণ হলো শনিবার (১৩ জুন)। ২০১৭ সালের এই দিনে টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে সেনাসদস্যসহ প্রায় ১২০ জনের মৃত্যু হয়। এত বড় বিপর্যয়ের বছর পার হলেও এখনো পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি; বরং কিছু এলাকায় তা বেড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ওই বিপর্যয়ে রাঙ্গামাটি সদরে ৬৬ জন, কাউখালীতে ২১ জন, কাপ্তাইয়ে ১৮ জন, জুরাছড়িতে ৬ জন এবং বিলাইছড়িতে ২ জনসহ মোট ১১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে ছিলেন নারী, পুরুষ ও শিশুও। এছাড়া পৃথক ঘটনায় সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্যও নিহত হন।

আরও পড়ুনঃ  ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, নাচোলে চার সরকারি দপ্তরে তালা

ওই সময় পাহাড়ধসে রাঙ্গামাটি–চট্টগ্রাম সড়কসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়। পরে সেনাবাহিনী ও সড়ক বিভাগের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৭ সালের ওই ধস ছিল রাঙ্গামাটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটি। সেই ঘটনার প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  জ্বালানি সংকট নিয়ে নাহিদের ক্ষোভ, বেসরকারিকরণ বন্ধের দাবি

পরবর্তী বছরগুলোতেও পাহাড়ধস থামেনি। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে পৃথক ঘটনায় আবারও প্রাণহানির খবর আসে।

জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, জেলায় এখনো প্রায় শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা রয়েছে এবং ২০ হাজারের বেশি মানুষ পাহাড়ের ঢালে বসবাস করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বিকল্প বাসস্থানের অভাবে বাধ্য হয়েই তারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকছেন। বর্ষা এলে আতঙ্ক বাড়ে, কিন্তু স্থায়ী পুনর্বাসনের উদ্যোগ না থাকায় পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থেকে যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  আদালতের নির্দেশ না মানায় দাগনভূঞা থানার ওসিকে প্রত্যাহারের আদেশ

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাঙ্গামাটি শাখার প্রতিনিধিরা মনে করেন, শুধু মৌসুমি সতর্কতা নয়, পাহাড়ে অবৈধ বসতি স্থাপন বন্ধে কঠোর ও স্থায়ী পদক্ষেপ প্রয়োজন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। তবে ভূমি ব্যবস্থাপনার জটিলতার কারণে এ কাজ সময়সাপেক্ষ বলে তারা উল্লেখ করেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পাহাড়ের ঢালে বসতি নির্মাণে কঠোর নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করা না গেলে ভবিষ্যতেও পাহাড়ধসের ঝুঁকি থেকে যাবে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

খারগ দ্বীপে আবারও ট্যাংকারে অপরিশোধিত তেল তুলছে ইরান

রাঙ্গামাটির পাহাড়ধসের ৯ বছর: ১২০ প্রাণের পরও ঝুঁকিপূর্ণ বসতি অপরিবর্তিত

আপডেটের সময়: ০২:০৯:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

 

রাঙ্গামাটিতে ভয়াবহ পাহাড়ধসের নয় বছর পূর্ণ হলো শনিবার (১৩ জুন)। ২০১৭ সালের এই দিনে টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে সেনাসদস্যসহ প্রায় ১২০ জনের মৃত্যু হয়। এত বড় বিপর্যয়ের বছর পার হলেও এখনো পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি; বরং কিছু এলাকায় তা বেড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ওই বিপর্যয়ে রাঙ্গামাটি সদরে ৬৬ জন, কাউখালীতে ২১ জন, কাপ্তাইয়ে ১৮ জন, জুরাছড়িতে ৬ জন এবং বিলাইছড়িতে ২ জনসহ মোট ১১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে ছিলেন নারী, পুরুষ ও শিশুও। এছাড়া পৃথক ঘটনায় সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্যও নিহত হন।

আরও পড়ুনঃ  ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, নাচোলে চার সরকারি দপ্তরে তালা

ওই সময় পাহাড়ধসে রাঙ্গামাটি–চট্টগ্রাম সড়কসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়। পরে সেনাবাহিনী ও সড়ক বিভাগের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৭ সালের ওই ধস ছিল রাঙ্গামাটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটি। সেই ঘটনার প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  আদালতের নির্দেশ না মানায় দাগনভূঞা থানার ওসিকে প্রত্যাহারের আদেশ

পরবর্তী বছরগুলোতেও পাহাড়ধস থামেনি। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে পৃথক ঘটনায় আবারও প্রাণহানির খবর আসে।

জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, জেলায় এখনো প্রায় শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা রয়েছে এবং ২০ হাজারের বেশি মানুষ পাহাড়ের ঢালে বসবাস করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বিকল্প বাসস্থানের অভাবে বাধ্য হয়েই তারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকছেন। বর্ষা এলে আতঙ্ক বাড়ে, কিন্তু স্থায়ী পুনর্বাসনের উদ্যোগ না থাকায় পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থেকে যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  ১৮ বছরে নির্যাতিতদের বীরের মর্যাদা ও ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাঙ্গামাটি শাখার প্রতিনিধিরা মনে করেন, শুধু মৌসুমি সতর্কতা নয়, পাহাড়ে অবৈধ বসতি স্থাপন বন্ধে কঠোর ও স্থায়ী পদক্ষেপ প্রয়োজন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। তবে ভূমি ব্যবস্থাপনার জটিলতার কারণে এ কাজ সময়সাপেক্ষ বলে তারা উল্লেখ করেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পাহাড়ের ঢালে বসতি নির্মাণে কঠোর নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করা না গেলে ভবিষ্যতেও পাহাড়ধসের ঝুঁকি থেকে যাবে।