দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় সাড়ে তিন বছর পর আবারও ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় উন্নতির ফলে রিজার্ভে এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মোট (গ্রস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ ৩২ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।
চলতি বছরের ১ জুন মোট রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার, আর বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ৩০ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মোট রিজার্ভ প্রায় ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের পর এই প্রথম রিজার্ভ আবারও ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘরে ফিরেছে। সে সময় আমদানি ব্যয় পরিশোধের চাপের কারণে রিজার্ভ দ্রুত কমে গিয়েছিল।
অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রবাসী আয় ধারাবাহিকভাবে বাড়া, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে সরকারি প্রণোদনা, হুন্ডি প্রতিরোধে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ এবং বৈধ ও অবৈধ বাজারে ডলারের দামের ব্যবধান কমে আসা—এসব কারণে ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বেড়েছে।
সরকার বর্তমানে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে ২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ প্রবাসীদের আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে আরও উৎসাহিত করছে।
সর্বশেষ ১২ মাসে প্রবাসীরা প্রায় ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম উচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর ইতিবাচক প্রভাব বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও প্রতিফলিত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে. মুজেরী মনে করেন, হুন্ডি নিরুৎসাহিত হওয়া এবং বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর সুযোগ সহজ হওয়ায় রেমিট্যান্স বেড়েছে। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির ফলে রিজার্ভ পুনরুদ্ধার হয়েছে এবং ডলার সংকট কমে আসায় আমদানি কার্যক্রমও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং বিনিয়োগ ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রতিবেদকের নাম 




















