২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রতিহিংসা নয়, ভালোবাসা ও শান্তির মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা ও অসন্তোষ দেখা দেয়। সেই সময় পরিস্থিতি শান্ত রাখা এবং প্রতিশোধপরায়ণতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে মুক্তি পাওয়ার পর ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “ধ্বংস নয়, প্রতিহিংসা নয়, ভালোবাসায় নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।” তিনি বলেন, ছাত্র-তরুণদের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশ নতুন বিজয় অর্জন করেছে। এখন সেই বিজয়কে কাজে লাগিয়ে একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সবার দায়িত্ব।
খালেদা জিয়া আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতা ও তরুণদের ধন্যবাদ জানিয়ে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর দেশ ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছে। যারা আত্মত্যাগের মাধ্যমে অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন, সেই বীর সন্তানদের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং শহিদদের স্মরণ করেন।
বক্তব্যের শুরুতে দীর্ঘ অসুস্থতার পর জনগণের সামনে কথা বলার সুযোগ পাওয়ায় মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। একই সঙ্গে কারাবন্দি অবস্থায় তার মুক্তির জন্য আন্দোলন, দোয়া ও সমর্থন জানানো দেশবাসীর প্রতিও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, বরং ঐক্য, শান্তি ও সহমর্মিতার ভিত্তিতে দেশ পুনর্গঠন করতে হবে। সরকারের দুর্নীতি ও গণতন্ত্র ধ্বংসের ক্ষত কাটিয়ে একটি আধুনিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ছাত্র-তরুণদের নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
খালেদা জিয়া আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশ হবে মেধা, যোগ্যতা, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত একটি রাষ্ট্র। সেখানে সব ধর্ম, জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। শান্তি, প্রগতি ও সাম্যের ভিত্তিতে একটি শোষণহীন সমাজ গঠনেরও আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। চার দশকেরও বেশি সময় বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এই নেত্রী ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মা।
প্রতিবেদকের নাম 



















