
বিশ্বের মুসলিমপ্রধান বিভিন্ন দেশে ১৪৪৮ হিজরি নববর্ষ উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ইসলামী বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররমের সূচনার মাধ্যমে নতুন হিজরি বছরের সূচনা হয়। এ উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটি দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাচ্ছে অনেক দেশ। চাঁদ দেখা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে ২০২৬ সালের জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে (১৫ থেকে ১৮ জুনের মধ্যে) এই ছুটিগুলো কার্যকর হচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার ১৫ জুন (সোমবার) হিজরি নববর্ষের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। এর ফলে সরকারি ও বেসরকারি খাতের কর্মীরা টানা তিন দিনের অবকাশ উপভোগের সুযোগ পেয়েছেন। বাহরাইন সরকার ১৬ জুন (মঙ্গলবার) হিজরি নববর্ষ উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। দেশটির সরকারি দপ্তর ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ওই দিন বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
জর্ডানের প্রধানমন্ত্রী জাফর হাসানও ১৬ জুনকে সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সরকারি মন্ত্রণালয়, প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাগুলো এ উপলক্ষে বন্ধ থাকবে। অন্যদিকে মিশরের প্রধানমন্ত্রী মোস্তাফা মাদবুলি ১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) হিজরি নববর্ষ উপলক্ষে বেতনসহ সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছেন। সরকারি অফিস, মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলো ওই দিন বন্ধ থাকবে।
ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয় এক রাজকীয় ডিক্রি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) হিজরি নববর্ষের দাপ্তরিক ছুটি ঘোষণা করেছে। ফলে ওমানবাসী সাপ্তাহিক ছুটির সাথে মিলিয়ে একদিন বাড়তি ছুটি উপভোগ করতে পারবে। উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোও হিজরি নববর্ষ উপলক্ষে ১৭ জুন (বুধবার) জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেছে। এই দিনে সেখানকার স্কুল, কলেজ ও অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। এছাড়া কুয়েত, কাতার, ইরাকসহ ২০টির অধিক মুসলিম দেশে হিজরি নববর্ষ উপলক্ষে সরকারি ছুটি পালনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
হিজরি নববর্ষ মুসলমানদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতকে কেন্দ্র করেই ইসলামী সনের গণনা শুরু হয়। খলিফা ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর শাসনামলে এই হিজরতকে ভিত্তি করে হিজরি বর্ষপঞ্জি প্রবর্তিত হয়। বিশ্বের মুসলমানরা সাধারণত দোয়া, ইবাদত, আত্মসমালোচনা এবং নতুন বছরের জন্য কল্যাণ কামনার মধ্য দিয়ে হিজরি নববর্ষ পালন করে থাকেন।
arif 




















