দেশের টেকসই উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং জলবায়ু সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)।
সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর শেরে-বাংলা নগরে অনুষ্ঠিত এনইসি বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নতুন সরকারের অধীনে এটিই ছিল প্রথম এনইসি সভা।
সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, অনুমোদিত এডিপির মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে আসবে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।
সরকার বলছে, নতুন এডিপি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আঞ্চলিক বৈষম্য কমানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রশাসনিক আধুনিকায়ন একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া যায়। একইসঙ্গে জলবায়ু অভিযোজন, সবুজ প্রবৃদ্ধি ও নীল অর্থনীতিকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
এবারের এডিপিতে স্থানীয় সরকার, সড়ক পরিবহন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে। শুধু পরিবহন ও যোগাযোগ খাতেই বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি। এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতেও বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচিতে ১৭ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পিপিপি প্রকল্প, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো এবং বৈদেশিক অর্থায়ননির্ভর উন্নয়ন প্রকল্পেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্যমতে, নতুন এডিপিতে ১ হাজারের বেশি নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ, জরিপ, কারিগরি সহায়তা ও বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা খাতও রয়েছে।
সরকার সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে, যেসব প্রকল্প ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা, সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। একইসঙ্গে দীর্ঘসূত্রতা ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















