ইসলামের দৃষ্টিতে দেশ, সমাজ ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু নাগরিক দায়িত্ব নয়—বরং এটি একটি মহান ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। যারা জীবন, সম্পদ ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সতর্কভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তাদের জন্য ইসলামে উচ্চ মর্যাদা ও বড় প্রতিদানের ঘোষণা রয়েছে।
ইসলামী পরিভাষায় সীমান্ত ও জনপদ রক্ষায় সতর্ক অবস্থানকে ‘রিবাত’ বলা হয়। কোরআন ও হাদিসে এই আমলের বিশেষ ফজিলতের কথা উল্লেখ রয়েছে, যা অনেক নফল ইবাদতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলে বর্ণিত হয়েছে।
কোরআনে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের ধৈর্য ধারণ, সতর্ক থাকা এবং সীমান্তে প্রহরায় নিয়োজিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন (সূরা আলে ইমরান : ২০০)।
হাদিসে এসেছে, আল্লাহর পথে এক দিন সীমান্ত পাহারা দেওয়া দুনিয়া ও এর সব কিছুর চেয়েও উত্তম (সহিহ বুখারি : ২৮৯২)। অন্য হাদিসে বলা হয়েছে, এক দিন ও এক রাতের প্রহরা এক মাসের রোজা ও রাতভর ইবাদতের চেয়েও বেশি সওয়াবের (সহিহ মুসলিম : ১৯১৩)।
এছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) উল্লেখ করেছেন, সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত অবস্থায় কারও মৃত্যু হলে তার আমলের সওয়াব অব্যাহত থাকে এবং সে কবরের পরীক্ষার ভয় থেকে নিরাপদ থাকে। কিছু বর্ণনায় এমন প্রহরাকে কদরের রাতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে।
অন্য হাদিসে বলা হয়েছে, আল্লাহর পথে রাত জেগে পাহারা দেওয়া চোখ জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাবে (তিরমিজি : ১৬৩৯)।
বর্তমান সময়ে সেনাবাহিনী, বিজিবি, নৌবাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দেশের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ইসলামের আলোকে, যদি তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও মানুষের নিরাপত্তার নিয়তে দায়িত্ব পালন করেন, তবে তারা এসব ফজিলতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশা করতে পারেন।
সব মিলিয়ে ইসলাম সীমান্ত পাহারা ও জননিরাপত্তাকে একটি মহান ইবাদত হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা দুনিয়া ও আখিরাত উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ।
প্রতিবেদকের নাম 




















