নাটোরের গুরুদাসপুরে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত আট রুশ নাগরিকসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত ১০টার দিকে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের তালবাড়িয়া এলাকায় ঘটে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
নিহত ব্যক্তি ট্রাকের হেলপার আফরোজ (আনুমানিক ৩০)। তিনি নাটোর সদর উপজেলার হয়বতপুর এলাকার মোহাম্মদ আনুর ছেলে।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাটোরের হযরতপুর থেকে পেঁয়াজ-রসুন বোঝাই একটি ট্রাক ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। একই সময়ে ঢাকা থেকে ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগামী একটি যাত্রীবাহী বাস তালবাড়িয়া এলাকায় পৌঁছালে দুটি গাড়ির মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ট্রাকটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ট্রাকের হেলপার আফরোজ।
দুর্ঘটনায় ট্রাক ও বাসের চালকসহ অন্তত ১২ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত আটজন রুশ নাগরিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজন নারী। খবর পেয়ে গুরুদাসপুর ও বনপাড়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে আহতদের গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর মহাসড়কের এক পাশ দিয়ে যান চলাচল আংশিকভাবে স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুল ইসলাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন। তারা চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিবেদকের নাম 



















